সারাবাংলা প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, খুলনা অঞ্চলে সাম্প্রতিককালে ঘটে চলা নৃশংস হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্যে গুলি, চাঁদাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চলের নেতারা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে নেতারা দাবি করেন, খুলনার সাধারণ মানুষের জীবন সম্পূর্ণ নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠেছে। তারা অভিযোগ করেন, ভোর থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করে হত্যা, জবরদখল এবং চাঁদাবাজি চলছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিঁচকে চুরি ও বৈদ্যুতিক তার চুরির মতো অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে মাদকের অবাধ বিস্তারকে এই নৈরাজ্যের মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নেতারা দাবি করেন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো মাদকের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করলেও অপরাধীদের মূলোৎপাটনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অপরাধী চক্রগুলোর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও পাল্টাপাল্টি হামলায় পরিস্থিতি ভারী হয়ে উঠেছে বলেও বলা হয়।

জামায়াতের নেতারা আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, এসব অপরাধীদের মদদদাতা ও নেপথ্যের প্রভাবশালীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের প্রতিবাদ সত্ত্বেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, অবিলম্বে সন্ত্রাস, খুন, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজি শক্ত হাতে দমন করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে, যার দায়ভার সরকার ও প্রশাসনকে বহন করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার ও নেপথ্য নায়কদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও খুলনা অঞ্চল পরিচালক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ এমপি, সহকারী পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক এমপি, অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এমপি, অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান এমপি, মাস্টার শফিকুল আলম এবং মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এমপি।

এছাড়া খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন এমপি, খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, বাগেরহাট জেলা নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করিম, সেক্রেটারি শেখ মোহাম্মদ ইউনুস, সাতক্ষীরা জেলা আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল এবং সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমানও একই ধরনের বিবৃতি দিয়েছেন।