বাংলা ট্রিবিউন প্রতিবেদন অনুযায়ী, খুলনা মহানগর ও জেলায় সাম্প্রতিক কয়েক মাস ধরে গুলি করার ঘটনা অহরহ ঘটছে। সাধারণ মানুষ একটা খবর শুনে নিঃশ্বাসও নিতে পারছে না, আরেকটা গুলির ঘটনা ঘটছে। রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, শিক্ষক, স্কুলছাত্রী, নারী ও পথচারীরাও গুলির শিকার হচ্ছেন।
গত ২৬ অক্টোবর রাতে বটিয়াঘাটায় যুবদল নেতা সোহেল, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাবেক যুবদল নেতা বাদল, ২৭ অক্টোবর দুপুরে নিরালায় জাপান ট্যোবাকোর কর্মী সালমানকে গুলি করে ছিনতাই করা হয়। ২২ অক্টোবর খুলনায় দুটি হত্যা হয়—সকালে পূর্ব বানিয়াখামার এলাকায় তাওহিদুল ইসলাম ও সন্ধ্যায় জিন্নাহপাড়ায় গৃহবধূ খুশি আক্তার। পুলিশ দুটি হত্যাকাণ্ডই মাদক বিরোধ বলে ধারণা করছেন। ২৪ অক্টোবর তেরখাদার যুবদল নেতা রামিম বিশ্বাস গুলিবিদ্ধ হন। একই দিন রাতে বাবু খান রোডে সন্ধানী ক্লিনিকে ফাঁকা গুলি ও ভাঙ্গচুর করা হয়। ১৮ অক্টোবর টুটপাড়া আমতলা মোড়ে শেখ জুম্মান রহমানকে গুলি করে মোবাইল ফোন ছিনা হয়। ৩ জুলাই রূপসার নতুন বাজার এলাকায় দশম শ্রেণির ছাত্রী (১৫) গুলিবিদ্ধ হন। ২ জুলাই লবণচরায় রাতুল শেখ আহত হন।
খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি) জানিয়েছে, এক সময় নগরীতে ২০০টির বেশি কিশোর গ্যাং সক্রিয় ছিল। বয়স বেড়ে যাওয়ার সাথে তাদের একাংশ বিভিন্ন অপরাধী বাহিনীতে যুক্ত হয়েছে, পাশাপাশি নতুন বাহিনীও উদ্ভূত হয়েছে।
এ বছরের আলোচিত ঘটনায় রয়েছে সোনাডাঙ্গার দারুল আমান মহল্লায় ট্রিপল মার্ডার (৩০ মে)। রূপসায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড উদ্বেগ বাড়িয়েছে—৫ অক্টোবর আক্তার ঢালী, প্রায় ডেড় মাস আগে তার ছেলে জয় ঢালী, ১৫ আগস্ট একই দিনে দুজন খুন। স্থানীয়রা মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে অস্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন।
৯ অক্টোবর রূপসা অভিযান থেকে ফেরার পথে পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমকে লুটের শিকার করা হয়। ১২ অক্টোবর লবণচরার টুটপাড়ায় চাঁদা না পেয়ে বাড়িতে হামলা ও ফাঁকা গুলি, ৭ অক্টোবর দৌলতপুরে মহিদুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ, ১৭ অক্টোবর পশ্চিম টুটপাড়ায় যুবককে গুলি করে মোবাইল লুট, ১২ অক্টোবর সোনাডাঙ্গায় গৃহকর্ত্রীকে অচেতন করে ৫.৫ ভরি সোনালংকার লুট—এই ঘটনাগুলো ঘটেছে।
৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুল সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসায়ীদের রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার না করার হুঁশিয়ারি দেন। কয়েক ঘণ্টা পর সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিস থেকে সাবরেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মণ্ডলকে অস্ত্রের মুখে তুলে নেওয়া হয়। ৪০ মিনিট পর তিনি ফিরে আসেন এবং সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমনি কথা ছিল, তাই গিয়েছিলাম।’
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক কুদরত-এ-খুদা মনে করেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে ঘাটতির কারণেই আইন শৃঙ্খলা অবনত হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব আইন শৃঙ্খলায় পড়ছেন বলে বলেন।
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, কিছু অপরাধী খুন হচ্ছে, কিছু অপরাধী খুন করছে—এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশ বল প্রয়োগ করলে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, না করলে দুর্বল। তিনি ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর পুলিশ অনুপস্থিতিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলার কথা উল্লেখ করে বর্তমান পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে বলে দাবি করেছেন।







