দেশে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনা গত কয়েক দিনে বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশ রূপান্তর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত অর্থাৎ ১৫ দিনে মব সহিংসতায় আটটি ঘটনা ঘটেছে, যাতে ১০ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণাবাদ গ্রামে হোটেলকর্মী ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৩৮) কে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গত ১২ অক্টোবর মারধর করা হয়। পরে ফেসবুক লাইভে শাস্তি দাবি করে জনসমূহ জড়িয়ে আবারও তাকে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় ১০ জন নামজদ এবং ২০০-২৫০ জন অজ্ঞাতকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
এছাড়া যশোরে চুরির অভিযোগে মিজানুর রহমান, নোয়াখালী সোনাপুরে কবির হোসেন (২৫), ভোলায় আসিফ (২৩), ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আলম শেখ (৪১), রংপুর গঙ্গাচড়ায় এজাজুল হক (৪৬) ও সাদিকুল ইসলাম (২৫), কক্সবাজার উখিয়ায় রোহিঙ্গা আল আমিন (৩০) এবং রংপুর মিঠাপুকুরে খালিদ হাসান (২৫) — এই সবাই মব সহিংসতার শিকার হয়েছেন। চট্টগ্রাম চান্দগাঁওয়েও হাসান (৩০) নামে এক যুবক চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
গৃহমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, মব সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ অনুসরণ করছে। অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন এলাকায় তল্লাশি বেড়ানো হয়েছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক মনে করেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আস্থার সংকটই বিক্ষুব্ধ জনতার প্রতিক্রিয়ার কারণ। তিনি পুলিশ ও জনগণের মধ্যে আস্থা ও সম্পৃক্ততা বেড়াতে হবে বলে বলেছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান বলেছেন, কেউ অপরাধ করলে আইন ও আদালত আছে; আবেগের বশবর্তী হয়ে আইন হাতে নেওয়া উচিত নয়। ফৌজদারি আইনবিদ এহসানুল হক সমাজী মব সহিংসতাকে অপরাধ বলে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মব ঘটনায় বিপুল মানুষের জড়িত থাকায় আসামি শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে জটিলতা হচ্ছে। দেবহাটা থানার এসআই আল আমিন বলেছেন, ভিডিও ফুটেজ থেকে আসামিদের শনাক্ত করা কঠিন এবং অনেক আসামি স্থানীয় নন। শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক আজিজুর রহমানও একই সমস্যা উল্লেখ করেছেন।







