বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোতে ২০২৬ সালের ৩ মার্চ তিনজনের মৃত্যু ঘটে। ইতি রানী (৩৪), তার দুই মেয়ে আরাধ্যা বিশ্বাস (১১) ও অনুরাধা বিশ্বাস (৩) এর মৃতদেহ তৃতীয় তলার দুটি কক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রথম আলো অনুযায়ী।
মৃত্যুর কারণ ময়নাতদন্তে রাসায়নিক বিষক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইতি রানীর মৃত্যু আত্মহত্যা হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ, আর দুই মেয়ের মৃত্যু একই ধরনের বিষক্রিয়া ও শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড হিসেবে নির্ধারিত। প্রথম আলো অনুযায়ী।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস সুপারি ব্যবসায়ী ও দরজি, এবং তার স্ত্রী ইতি ডাকবাংলোর অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। পরিবারটি ৪ লাখ ৭ হাজার ৭২৩ টাকার ঋণে জর্জরিত ছিল, যার মধ্যে ২ লাখ ২৭ হাজার ৭২৩ টাকার ঋণ ৫টি এনজিও থেকে, ৮০ হাজার টাকার ঋণ একটি এনজিও থেকে, এবং ১ লাখ টাকার ঋণ দুই ব্যক্তির কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। প্রথম আলো অনুযায়ী।
মায়ের ৩ হাজার টাকার বেতনে ডাকবাংলোতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ শুরু করেন, কিন্তু ঋণের কিস্তি পরিশোধে দুশ্চিন্তায় ভুগতে থাকেন। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১০:৪৫-এ ইতি রানী দুই মেয়েকে নিয়ে তৃতীয় তলায় প্রবেশ করেন, ১০:৫০-এ বড় মেয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন, ১১:১৩-এ ছোট মেয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন, এরপর দুজনকে জীবিত অবস্থায় বের হতে দেখা যায়নি। প্রথম আলো অনুযায়ী।
পুলিশের মতে, ইতি রানী কোমল পানীয় বা খাবারের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে দুই মেয়েকে পান করিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন, এরপর নিজেও চেতনানাশক ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যা করেন। প্রথম আলো অনুযায়ী।
দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস প্রথম আলোকে জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তার স্ত্রী দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন বলে উল্লেখ নেই, তাই তিনি রিপোর্টটি প্রত্যাখ্যান করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকিত হাসান খান জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মেডিক্যাল বিভাগ থেকে পাওয়া, পুলিশ রিপোর্ট দাখিলের প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম আলো অনুযায়ী।






