আজকের পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, সুন্দরবনের পারিস্থিতিক তন্ত্র প্লাস্টিক বর্জ্যের চাপে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। বনের কটকা, কচিখালী, জামতলা, ডিমের চর ও আন্ধারমানিক সহ বিভিন্ন এলাকায় গাছের শ্বাসমূল, মাটি ও জোয়ারের পানিতে পলিথিন, নাইলন জাল, প্লাস্টিকের বোতল ও দড়ি জমে আছে।

বনজীবীরা জানিয়েছেন, প্লাস্টিক বর্জ্য বেশি জমা থাকা এলাকায় কাঁকড়া, শামুক ও অন্যান্য তলদেশবাসী প্রাণীর বিচরণ কমে গেছে। পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল ও প্লাস্টিকের দড়ি নতুন চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধা দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ তারেক আরাফাত বলেন, বড় প্লাস্টিক ধীরে ধীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকে রূপান্তরিত হয়ে মাটির সাথে মিশে যায় এবং প্রাণীদের শরীরে প্রবেশ করে তাদের প্রজননক্ষমতা ও স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ক্ষতি পৌঁছাতে পারে। ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাদের গবেষণায় সুন্দরবনের ছয়টি স্থানের নমুনায় প্রতি লিটার পানিতে গড়ে ২.২২টি এবং প্রতি কিলোগ্রাম মাটিতে ৭৩৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।

২০২২ সালে 'সায়েন্স অব দ্য টোটাল এনভায়রনমেন্ট' জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় সুন্দরবনের জলজ খাদ্যশৃঙ্খলের বিভিন্ন স্তরের প্রাণীতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত করা হয়েছিল। প্রাথমিক ভোক্তা প্রাণীতে গড়ে ০.৫৬টি এবং চতুর্থ স্তরের ভোক্তা প্রাণীতে গড়ে ৪.১৭টি কণা পাওয়া গিয়েছিল। ২০২৩ সালের আরেক গবেষণায় আট প্রজাতির ৬৪টি মাছের পরিপাকতন্ত্রে প্রতি মাছে গড়ে ৭.১টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. গওসিয়া ওয়াহিদুন্নেসা চৌধুরী মনে করেন, প্লাস্টিক দূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তিনি বলেন, "সুন্দরবন তো একটাই। এটি নষ্ট হলে বিকল্প কোনো অপশন নেই আমাদের।"

পূর্ব বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, বন বিভাগে ১৪০টি বনরক্ষীর পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পর্যটকদের একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বনের ভেতর না আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সমুদ্র ও নদী থেকে ভেসে আসা প্লাস্টিক বর্জ্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশেষজ্ঞরা দৃশ্যমান প্লাস্টিক বর্জ্যের গাছপালা, প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম ও তলদেশবাসী প্রাণীর আবাসস্থলে সরাসরি প্রভাব নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি তুলনামূলক গবেষণার প্রয়োজনীয়তা জতাচ্ছেন। বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রকৃতিতে প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব অজানা থেকে যেতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।