দেশের দক্ষিণ‑পশ্চিমাঞ্চলে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে, যার বিকল্প হিসেবে কুয়াকাটা ও হিরণ পয়েন্ট আলোচনায় এসেছে। দেশ রূপান্তর অনুযায়ী, প্রকল্পটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণে পরিবেশগত ঝুঁকি ও লাইটারেজ ব্যয় নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খুলনা ও বাগেরহাট পরিদর্শন করেন এবং জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার কোম্পানি জায়া সামুদ্রা কারুনিয়ার (জেএসকে) প্রস্তাব আলোচনা করেন। জেএসকে গভীর সমুদ্রে ভাসমান গ্যাস সংরক্ষণ ইউনিট (এফএসইউ) ও ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে।

জেএসকের প্রস্তাবের প্রধান অসুবিধা হল মূল্য। প্রতি এমএমবিটিইউর জন্য প্রস্তাবিত ৪ ডলার, যা মহেশখালীর টার্মিনালের ৪৯–৪৮ সেন্টের তুলনায় সাড়ে তিন ডলার বেশি। এছাড়া পাঁচটি জাহাজ ও লাইটারেজের খরচ যুক্ত হওয়ায় মোট ব্যয় বাড়ছে।

হিরণ পয়েন্টে টার্মিনাল নির্মাণে ১৩০–১৪০ কিলোমিটার পাইপলাইন দরকার, যার মধ্যে ৮০ কিলোমিটার সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ২৪–৩৬ ইঞ্চি পাইপলাইনের জন্য ১৫ মিটার রাইট‑অব‑ওয়ে প্রয়োজন, ফলে ৪৫ ফুট প্রস্থের জমি দরকার। ৩৬ ইঞ্চি পাইপলাইনের জন্য ২৩ মিটার বা ৬৯ ফুট জমি প্রয়োজন, যা ১৬৮.২৫ হেক্টর গাছ কাটা সমান।

সুন্দরবনের ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকায় পাইপলাইন নির্মাণে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা ও বন‑পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন, যা প্রকল্পকে বিলম্বিত করতে পারে।

কুয়াকাটা বিকল্পে ৬০ কিলোমিটার সাবসি পাইপলাইন দরকার, এবং খুলনা‑কুয়াকাটা রুটে সড়কপথে যাতায়াত সম্ভব। পাইপলাইন নির্মাণে ২৩০ কিলোমিটার, প্রতি কিলোমিটারে ২ মিলিয়ন ডলার খরচে মোট ৪৬০ মিলিয়ন ডলার হবে, যা হিরণ পয়েন্টের ১৪০ কিলোমিটারের ২৮০ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৩০ মিলিয়ন ডলার বেশি। তবে কুয়াকাটা থেকে গ্যাস সরবরাহে বরিশাল বিভাগও যুক্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সুন্দরবনের সংরক্ষণে পাইপলাইন নির্মাণে সতর্কতা প্রয়োজন, এবং কুয়াকাটা বা হিরণ পয়েন্ট যেখানেই হোক না কেন খরচে বড় পার্থক্য নেই। কুয়াকাটা থেকে গ্যাস সরবরাহে বরিশালকে গ্যাস গ্রিডে আনা সম্ভব, যা দেশের গ্যাস ব্যবহার বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

দেশ রূপান্তর অনুযায়ী, প্রকল্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও গৃহীত হয়নি।