মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান অসন্তোষ ও বিক্ষোভ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইত্তেফাক জানিয়েছে, রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীসহ একাধিক মন্ত্রী ও উপদেষ্টা এই বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের স্থান ও সময় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য এসেছে। ইত্তেফাক, ঢাকা টাইমস ও চ্যানেল আই তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে বৈঠকটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অন্যদিকে সমকাল ও সারাবাংলা জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে বৈঠকটি শুরু হয়। বৈঠকের উপস্থিতি প্রসঙ্গে সমকাল জানায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহাদী আমিন এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নতুন ‘মজুরি বোর্ড’ গঠনের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে শেখ আশফাকুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মালিক, শ্রমিক ও স্বাধীন সদস্যদের সমন্বয়ে তিনি নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। শ্রমমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পোশাকশ্রমিকদের মূল দাবি মেনে এ বোর্ড গঠন করা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর পূর্বনির্ধারিত সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর বাতিল করেছেন বলে ঢাকা টাইমস ও সমকাল জানিয়েছে।

ইত্তেফাক ও ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, শ্রমিকদের বিক্ষোভের পেছনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমমন্ত্রী। সচিবালয়ে তিনি দাবি করেন, একটি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠনের নেতা শ্রমিক ছদ্মবেশে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

সমকাল ও সারাবাংলার তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকের একটি অংশ ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে ঢাকার মিরপুর, গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ায় বিক্ষোভ করেছে। মিরপুরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনার খবর পাওয়া গেছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের প্রায় ৩০০ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের রাস্তা ছেড়ে অবিলম্বে কাজে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।