দেশ রূপান্তর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বুধবার (২৮ অক্টোবর) ফেসবুকের অফিসিয়াল পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের জাপান সফরের মূল ফলাফলগুলো উপস্থাপন করেছেন।

তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ায় এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-এর সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মুক্ত-শান্তিপূর্ণ ইন্দো-প্যাসিফিক গড়ে তোলা বিষয়ে উভয় দেশের অভিন্ন প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করা হয়েছে।

বৈঠকের মূল লক্ষ্য ছিল অংশীদারত্বকে সাধারণ জনগণের জন্য বাস্তব সুযোগে রূপান্তর করা। জাপানের 'পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া' উদ্যোগের আওতায় ৫ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন (প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলার) জরুরি আর্থিক সহায়তা ও আগামী পাঁচ বছরে বেসরকারি খাতে সর্বোচ্চ ১ লাখ কোটি ইয়েন (প্রায় ৬৩০ কোটি মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই মেগা বিনিয়োগ বাস্তব হলে প্রায় দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া 'বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক' প্রতিষ্ঠা, মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট গবেষণায় সহযোগিতা, ছয়টি বিভাগীয় শহরের মধ্যে আধুনিক উচ্চগতির রেল যোগাযোগ স্থাপন ও 'বিগ-বি' উদ্যোগকে যৌথ সমৃদ্ধির কাঠামোতে রূপান্তর করা বিষয়ও আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে যৌথ মন্ত্রী পর্যায়ের কমিশন গঠনের প্রস্তাও রক্ষা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকটে জাপানের মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মিয়ানমারে স্থায়ী সমাধানের মাধ্যমে তাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে জাপানের সক্রিয় ভূমিকা চেয়েছেন। তিনি জাপানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা স্বীকৃতি দেয়া প্রথম দেশগুলোর এক বলে উল্লেখ করে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।