প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ আইনের মধ্যে থেকে “হত্যা” করার অধিকার রাখে, তবে বর্তমান সরকার অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ চায় না।

তিনি মঙ্গলবার সচিবালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিন দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

পুলিশের বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আত্মরক্ষায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যায়, কিন্তু তা আইনি প্রক্রিয়া ও পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

সেনা ও পুলিশের দায়িত্বের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, পুলিশকে জনগণের মুখোমুখি হতে হয়, তাই প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কথা ভাবতে হবে।

আবু সাঈদের মৃত্যুর উদাহরণ দিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, গুলি চালানো অবধারিত ছিল কি না তা পরিস্থিতি ও আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী দেখতে হবে।

হাসিনা সরকারের সময় পুলিশকে “ট্রিগার হ্যাপি ফোর্স” বলা হয়, লাঠিচার্জ বা গ্যাসের বদলে গুলি চালানো হয়েছিল, এবং বর্তমান সরকার এই চর্চা থেকে পুলিশকে সরিয়ে আনতে চায়।

পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, বেশিরভাগই কিশোর গ্যাংয়ের মতো হলেও তারা রাষ্ট্রের নাগরিক, এবং সরকার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে চায়।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং আশা করেন বিক্ষোভ শীঘ্রই শেষ হবে।

আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা নিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলটি কিছু করতে পারবে না বলে মনে করেন, তবে তাদের কাছে লুটের টাকা থাকায় নাশকতার চেষ্টা হতে পারে।

ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরার ঘোষণা ঘিরে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা নিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে, কিন্তু আন্দোলনের সাথে ফেরার কোনো সম্পর্ক নেই বলে মনে করেন।

তিনি ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর শেখ হাসিনার সংসদে দেওয়া বক্তব্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তখনও তিনি সরকারকে “একদিনও শান্তিতে থাকতে দেব না” বলে হুমকি দিয়েছিলেন, এবং ভবিষ্যতেও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, সরকার রেকর্ড পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে, কিন্তু অর্থনৈতিক চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিবেচনায় কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।

উপরোক্ত বক্তব্যগুলি দেশ রূপান্তর ও আলোকিত বাংলাদেশে প্রকাশিত হয়েছে।