দেশ রূপান্তর অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় অবস্থিত সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে।

এই অবরোধে দোকানদারদের চাল, চিনি, ডাল, ভোজ্য তেল ও জ্বালানি তেলের মজুদ ফুরিয়ে আসছে, ফলে পণ্যবাহী গাড়ি না আসায় নতুন পণ্য আনা সম্ভব হচ্ছে না।

অকটেন সংকটের কারণে পানি পরিবহনও বন্ধ হয়ে গেছে, যা অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া ও জরুরি ওষুধের প্রাপ্যতায় সমস্যা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় জনগণ পাঁচ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধের পরও অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি, ফলে পর্যটনকেন্দ্রের হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁর কর্মচারীরা খাদ্য সংকটে পড়েছে।

মার্কেটের মালিক জনসিম চাকমা জানান, তার দোকানে চাল ও চিনি শেষ হয়ে গেছে, আশপাশের দোকানেও ডাল, সয়াবিন তেল ও ডিজেল-অকটেনের মজুদ ফুরিয়ে আসছে। সর্বশেষ ২১ অক্টোবর পণ্যবাহী গাড়ি সাজেকে পৌঁছেছিল।

সাজেক ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধি অনিত্য ত্রিপুরা জানান, তার ওয়ার্ডে প্রায় দেড় হাজার পরিবার বসবাস করে এবং ৫০০টির বেশি পরিবার পর্যটনকেন্দ্রে রয়েছে।

মিরাজ আলী, মাচাঙ নক রেস্তোরাঁয় কর্মরত, বলেন, কয়েক দিন কোনো গাড়ি না আসায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

রবার্ট ত্রিপুরা, স্থানীয় দোকানদার, বলেন, পর্যটক না আসায় আয় বন্ধ রয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঘাটতি বাড়ছে।

রিসোর্ট-কটেজ মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সাজেকে প্রায় ১৩৫টি রিসোর্ট ও কটেজ, ৩০টি রেস্তোরাঁ ও শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান পর্যটকদের ওপর নির্ভরশীল।

সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা গত সোমবার বিকেলে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন, কিন্তু প্রধান দাবিতে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।

রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান বলেন, খাদ্যসংকট দেখা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী, যা অবরোধের সমাধানের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করা জরুরি।