সমকালের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্পেনের মধ্যাঞ্চলীয় তোলেদো প্রদেশে দুটি উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ হয়েছে। বুধবারের এ দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবারও ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। এ ঘটনায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে স্পেন সরকার।

উদ্ধার অভিযান ও বিদেশি নাগরিকদের অবস্থা

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনাস্থলে রাতভর ক্রেন দিয়ে ট্রেনের ধ্বংসাবশেষ সরানো হয়েছে। উল্টে যাওয়া একটি বগিতে বিশেষভাবে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে, যেখানে ক্রেনের পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কুকুরও ব্যবহার করা হচ্ছে। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় সাতটি দেশের ৪২ জন বিদেশি নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন নিহত এবং অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৭ জন তখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দুর্ঘটনার কারণ ও সরকারের অবস্থান

পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে সংকেতব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত হয়েছে। তার ভাষ্য, কয়েকটি ট্রেন সংকেতসংক্রান্ত সমস্যার কারণে থেমে গিয়েছিল। পরে রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি ট্রেনকে স্বাভাবিক গতিতে চলার অনুমতি দেওয়া হয়, যদিও সামনে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইরিও পরিচালিত একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। তবে সরকার বলেছে, রেনফের ট্রেনটিকে চলতে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল ‘ব্যাখ্যাতীত’।

দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজে ৮০০-এর বেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্য, দুই শতাধিক যানবাহন, তিনটি হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রশিক্ষিত কুকুর মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে দুর্ঘটনাস্থলের দুই পাশে দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন তোলেদোর একজন বিচারক। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, হতাহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কর্তৃপক্ষ দিনরাত কাজ করছে।