গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানা অধীনে হাজীর মাজার বস্তি এলাকায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ঢাকা ট্রিবিউনের তিনজন সাংবাদিক—রাবিউল হাসান, আসিফুল ইসলাম রিফাত এবং ফটো সাংবাদিক আবির আহমেদ সুপ্ত—মাদক কারবারের তথ্য সংগ্রহের সময় সশস্ত্র গ্যাংয়ের আক্রমণের শিকার হন।

ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা অনুসারে, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তাদের ওপর হামলা চালিয়ে, ঘুমের ওষুধ মেশানো তরল পান করাতে বাধ্য করে, মাদক ও টাকা রেখে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিতে ভিডিও রেকর্ড করায়। ক্যামেরা, মোবাইল, টাকা ও পরিচয়পত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং অস্ত্রের মুখে হত্যা ও শারীরিক আঘাতের হুমকি দেয়া হয়। ভুক্তভোগীরা প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রাখা হয়।

সেই সময় গ্যাং সদস্যরা প্রায় ২০০ মানুষকে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করতে দেখিয়েছেন এবং ঘটনাস্থলটি একটি মসজিদ থেকে প্রায় ২০ মিটার, একটি খেয়াঘাট থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে ছিল। কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন।

রাবিউল হাসান টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেন যে গ্যাং তাদের মোবাইল ফোনে থাকা মাদক সরবরাহ কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও দেখার পর মারধর করে তথ্য মুছে ফেলে। তিনি বলেন, গ্যাং সদস্যরা বারবার আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং গুলি করার হুমকি দেয়।

ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনের পাশাপাশি, DT (Dhaka Tribune) এর ইংরেজি কভারেজে একই ঘটনাকে “DT journalists held hostage, tortured at gunpoint by Tongi drug gang” শিরোনামে উপস্থাপন করা হয়েছে। DT-র রিপোর্টে ঘটনাস্থল, জিম্মির সময়কাল (প্রায় তিন ঘণ্টা) এবং আক্রমণকারীর সংখ্যা (২০‑২৫) মূল সূত্রের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ, তবে DT অতিরিক্তভাবে উল্লেখ করেছে যে আক্রমণকারীরা ক্যামেরা ও ফোনের তথ্য মুছে ফেলার পর তা পুনরায় সংগ্রহের চেষ্টা করেনি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানা ওসি আরিফুর রহমান জানান, অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তের জন্য একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই দিনে ওই এলাকায় ছয়জন মাদকসেবী ও দুইজন মাদক কারবারী গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পূর্বে ২৬ অক্টোবর একই এলাকায় দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ ও নির্যাতন করা হয়েছিল; তার ওপর এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করা হয়। এই পূর্বের ঘটনা ও টঙ্গীর বর্তমান জিম্মি উভয়ই এলাকায় সংগঠিত অপরাধী চক্রের প্রভাব বাড়িয়ে তুলেছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইসরাইল হাওলাদার এবং নবনিযুক্ত কমিশনার আশিক সাঈদ উভয়ই ঘটনাটি তদন্তের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং মাজার বস্তি ও আশেপাশের এলাকায় মাদক কারবারী ও অপরাধীদের শনাক্ত করে শিগগিরই অভিযান চালানোর পরিকল্পনা জানিয়েছেন।