বাংলা ট্রিবিউনের তথ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার জয়কে ‘আরেকটি কারচুপির নির্বাচন’ বলে মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে তিনি কোনো প্রমাণ না দিয়ে, ভোট গণনা পদ্ধতি ও অতিরিক্ত ভোট সময়কে ‘খুবই অদ্ভুত’ বলে উল্লেখ করেন।

ব্রাজিলের ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো, যিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর পুত্র, প্রথমে ফল স্বীকারে অস্বীকার করেন এবং সুপ্রিম কোর্টের দুই ঘণ্টা ভোট সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নোংরা কৌশল’ বলে সমালোচনা করেন। তবে সোমবার তার লিবারেল পার্টি, দলীয় প্রধান ভালদেমার কস্তা নেতোর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে, নির্বাচনের ফল স্বীকার করার পাশাপাশি উত্থাপিত উদ্বেগগুলো স্পষ্ট করা দরকার বলে জানায়।

ফলাফল ও ভোট পার্থক্য

বাংলা ট্রিবিউনের মতে, বলসোনারো প্রায় ৪০ লাখের বেশি ভোটে লুলার কাছে হেরেছেন। অন্যদিকে, বাসসের রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে লুলা প্রায় ৪৪ লাখ বেশি ভোট পেয়েছেন। ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী লুলা ৫১.৭৯ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, যা প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ভোটের সমান হতে পারে। এই সংখ্যাগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে এবং উভয় সূত্রই উল্লেখ করেছে যে ভোট সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল।

ইনসপার অধ্যাপক পেদ্রো বুর্গোসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত দুই ঘণ্টায় ভোটে ৩৫ হাজারেরও কম ভোট যোগ হয়েছে, যা মোট ভোটের প্রায় ০.০৩ শতাংশ।

ট্রাম্পের মন্তব্যের পাশাপাশি, রোয়টার্সের রিপোর্টে উল্লেখ আছে যে ট্রাম্পের স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা বলসোনারো পরিবারকে ক্ষমতায় ফেরাতে প্রচারণা চালিয়েছিলেন, তবে এই দাবির কোনো প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।

ফ্লাভিও বলসোনারো পরে গৃহবন্দি বাবাকে দেখতে যাওয়ার পর ফেডারেল পুলিশের নির্দেশে তার পাসপোর্ট জমা দেবেন বলে জানান এবং ব্রাজিল ছেড়ে পালানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে অস্বীকার করেন।

এই তথ্যগুলো বাংলা ট্রিবিউন, বাসস, ইত্তেফাক ও ঢাকা পোস্টের প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে সংকলিত হয়েছে।