প্রথম আলো অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুল এলাকায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের শেষ প্রচার চালিয়ে বলেন, ‘কোনো এক কারণে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না। তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।’
ট্রাম্প আরও বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের এটাই শেষ দিন। আমার বিশ্বাস, আমাদের জীবদ্দশার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন এটি।’ তিনি রিপাবলিকানদের ভোটের আহ্বান জানিয়ে ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনা করেন, উল্লেখ করেন ‘ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে চরমপন্থী ও বিপজ্জনক প্রার্থীদের মনোনয়ন দিয়েছে।’
ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের অভিবাসন ও ট্রান্সজেন্ডার অধিকারবিষয়ক অবস্থানকে ‘উগ্র কর্মসূচি ও বিপজ্জনক মতাদর্শ’ বলে সমালোচনা করেন এবং বলেন, ‘আমরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের দেশ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করব।’
তিনি ওয়াশিংটনে নেওয়া নির্মাণ ও সংস্কার প্রকল্পগুলোর ওপর জোর দেন, বিশেষ করে রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কার, যার খরচ প্রায় দেড় কোটি ডলার বলে উল্লেখ করেন। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই কাজের বাধার জন্য নাশকতাকারীদের দায়ী করেন।
আজ মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণের জন্য দুই প্রধান দল লড়ছে। জনমত জরিপে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার আভাস দেখা যাচ্ছে, আর সিনেটের লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমরা (নির্বাচনে) দারুণ করব। তবে জিততে না পারলে আমি সবকিছুতে ভেটো দেব। একের পর এক ভেটো দেব। এরপর তারা (ডেমোক্র্যাট) আসবে, আর আমরা হয়তো কোনো না কোনো সমঝোতায় পৌঁছাব।’
ট্রাম্পের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারালে ডেমোক্র্যাটরা কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট ও তদন্ত কমিটিগুলোর নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে, আর সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের থাকলে তিনি তার মনোনীত বিচারকদের আজীবন নিয়োগ আটকে দিতে পারবেন, যার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগও অন্তর্ভুক্ত।






