চ্যানেল আই-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেটে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনের খেলা শেষে ক্যারিবীয় দলের স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটিংয়ে বিস্মিত হয়েছেন। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ১৮৪ রানে সপ্তম উইকেট হারালেও হৃদয়ের নেতৃত্বে দলটি ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়।
ওয়ারিক্যানের মন্তব্য
দিনের খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওয়ারিক্যান জানান, সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও ম্যাচের পরিস্থিতি নিজেদের পক্ষে ধরে রাখতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা হতাশ। আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলাম এবং পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলেই ছিল। কিন্তু হৃদয় খুব ভালো ব্যাট করেছে। আমাদের ভেবে দেখতে হবে কোথায় আমরা আরও ভালো করতে পারতাম। দল হিসেবে আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে কারণ এখনও অনেক কাজ বাকি। আগামীকাল আমাদের ফিরে এসে ভালো ব্যাট করতে হবে।’
কোথায় ভুল হয়েছে তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলতে চান না ওয়ারিক্যান। তিনি জানান, দল হিসেবে আলোচনা করবেন কী আরও ভালো করা যেত এবং একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজেও রাতে বাসায় গিয়ে ভাববেন যে কোথায় আরও ভালো করা যেতে পারত।
হৃদয়ের প্রভাব
চ্যানেল আই-র খবরে উল্লেখ করা হয়েছে, হৃদয়ের সঙ্গে মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটারদের বাকবিতণ্ডাও দেখা গেছে। তবে তাতে হৃদয়ের মনোযোগ নষ্ট হয়নি; বরং ব্যাট হাতে জবাব দিয়েছেন তিনি। ক্যারিবীয়দের কৌশল উল্টো ফল দিল কি না, এমন প্রশ্নে ওয়ারিক্যান কৃতিত্ব দিয়েছেন হৃদয়কে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না কৌশলটা আমাদের বিপক্ষে গেছে। সে আসলে অসাধারণ ব্যাটিং করেছে এবং এর কৃতিত্ব তাকে দিতেই হবে। সে দারুণ একটা ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে গেছে।’
হৃদয়ের সঙ্গে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটিংও অবাক করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। ওয়ারিক্যান বলেন, ‘এটা সবাইকে অবাক করেছে। আমরা সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে ভাবছিলাম যে কত রানের লিড পাওয়া যায়। কিন্তু সে যেভাবে ব্যাট করেছে তা সত্যিই বিশেষ কিছু, এর প্রশংসা তাকে করতেই হবে।’
এদিকে, ঢাকা পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ইনিংসটি ছিল তাওহীদ হৃদয়ের ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১৭৪ রানে পৌঁছালে হৃদয় অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ১৬৭ বলে ১১৭ রানের জুটি গড়েন, যার মধ্যে তিনি ৯২ রান করেন। এরপর তাসকিন আহমেদের সঙ্গ নিয়ে ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করেন, যা মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের পর বাংলাদেশের জন্য টেস্ট ক্রিকেটে চতুর্থ দ্বিশতক। ঢাকা পোস্ট উল্লেখ করেছে, এই ইনিংসে তিনি বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসও খেলেছেন।







