ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর ১০ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ছিল 'Lived Experiences Heard Real Voices, Real Change' (বাস্তব অভিজ্ঞতা শোনা: প্রকৃত কণ্ঠস্বর, প্রকৃত পরিবর্তন)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক বার্তায় জানানো হয়েছে, বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়নেরও বেশি মানুষ মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যার সাথে বসবাস করছেন।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ২০১৮ সালের জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের ১৬.৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২.৬-১৩.৬ শতাংশ মানসিক রোগে আক্রান্ত। সবচেয়ে চিন্তাজনক বিষয় হল চিকিৎসা না পাওয়ার হার: আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ৯২.৩ শতাংশ এবং শিশুদের ৯৪.৫ শতাংশ কোনও সেবাই পান না। গত জুলাই মাসে সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে ৯২ শতাংশের বেশি রোগী চিকিৎসার বাইরে আছেন।

লেখক ফিকামলি তত্ত্বের জনক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নতির জন্য পাঁচটি সুপারিশ করেছেন: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবা বিস্তার, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের সংহতি, চিকিৎসক-নার্স-শিক্ষক ও কমিউনিটি কর্মীদের প্রশিক্ষণ, টেলিমেডিসিন ও ডিজিটাল পরামর্শ সেবা বিস্তার, এবং শিক্ষা-জনসচেতনতা মাধ্যমে সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ। তিনি মানসিক স্বাস্থ্যকে জাতীয় উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।