ঢাকা পোস্ট অনুযায়ী, জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানা গ্যাস সংকটের কারণে ২৫ অক্টোবর (রবিবার) ভোর ৫টায় আবারও সার উৎপাদন বন্ধ করেছে।
কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দৈনিক ১,৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই কারখানা ৭ মাস ধরে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ ছিল। ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সংযোগের পর ৭ অক্টোবর বয়লার প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে সাময়িক বন্ধ, ২৩ অক্টোবর পুনরায় উৎপাদন শুরু, কিন্তু দুই দিন পর গ্যাস সংকটে আবারও বন্ধ।
কারখানা অনুযায়ী, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য ৪২-৪৩ PSI গ্যাস চাপ প্রয়োজন, কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ৫টায় বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় উৎপাদন শুরু হবে।
কারখানা ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ ছিল। ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ। ২০ সেপ্টেম্বর তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সংযোগ দেয়।
দীর্ঘ বন্ধ থাকার ফলে বিভিন্ন যান্ত্রিক ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে, যা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত করেছে। যমুনা সার কারখানা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত ১,৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে।
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়, যার ফলে প্রায় ৬০ কোটি টাকার লাভ হয়। কারখানা বন্ধ থাকলেও গ্যাস বিল প্রায় ৬ কোটি টাকার হয়। দীর্ঘ বন্ধ থাকলে প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সার সংকট দেখা দিতে পারে, যা কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে।







