রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম ও ভাটারা থানা এলাকা থেকে চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা ১২ নারীকে উদ্ধার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১ (এসআরবি-১)। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে কারওয়ান বাজারের এসআরবি মিডিয়া সেন্টরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-১-এর অধিনায়ক নেয়ামুল হালিম খান এ তথ্য জানান।
অভিযানের বিস্তারিত
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি নিখোঁজ জিডি (সাধারণ ডায়েরি) সূত্র ধরে এসআরবি-১ অভিযান শুরু করে। সোমবার বেলা ৩টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে প্রথমে ২ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত ১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ভাটারা এলাকা থেকে আরও ১০ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়।
নারীদের পরিচয় ও পাচারের পদ্ধতি
ইত্তেফাকের খবরে বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১২ নারী পার্বত্য/পাহাড়ি অঞ্চলের বাসিন্দা। প্রথম আলো ও বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, চীনে বেশি বেতনে চাকরি ও নানা সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে চট্টগ্রাম থেকে আনা হয়েছিল তাঁদের। বৈধ ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র ও পাসপোর্ট ছাড়াই বিদেশে পাচারের পরিকল্পনা চলছিল।
নির্যাতন ও শোষণের অভিযোগ
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উদ্ধার হওয়া নারীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের হवाले জানানো হয়েছে, বাসায় আটকে রেখে তাঁদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হত। পাশাপাশি বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়ানোর প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল। বাংলা ট্রিবিউনও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছে।
আইনি ব্যবস্থা
এসআরবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া নারীদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে বলে প্রথম আলো জানিয়েছে।
অন্যান্য অভিযান
বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ছাড়া গুলশান ও যাত্রাবাড়ীতে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, বিয়ার ও ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এই ঘটনাটি মূল পাচার কেস থেকে আলাদা হতে পারে।







