আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর অবশেষে ঢাকা-পাবনা আন্তনগর ট্রেন ঈশ্বরদী জংশন হয়ে চলাচলে আসছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিমুল ইসলাম গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকা পরিদর্শনকালীন এই তথ্য জানান।

ট্রেনের নাম ও সময়সূচি

বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্টের কার্যালয় থেকে ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জারি পত্র অনুযায়ী, দুটি ট্রেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে—‘পাবনা প্রভাতী এক্সপ্রেস (৮০৮)’ ও ‘পাবনা গোধূলি এক্সপ্রেস (৮০৭)’। ৮০৮ নম্বর ট্রেনটি পাবনা থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে ঈশ্বরদী হয়ে দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে। অন্যদিকে, ৮০৭ নম্বর ট্রেনটি ঢাকা থেকে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ৯টা ২০ মিনিটে পাবনায় পৌঁছাবে।

যাত্রাবিরতির স্টেশনসমূহ

প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, ট্রেন দুটি টেবুনিয়া, দাশুড়িয়া, ঈশ্বরদী, মাঝগ্রাম, চাটমোহর, বড়ালব্রিজ, উল্লাপাড়া, শহীদ মনসুর আলী, টাঙ্গাইল, জয়দেবপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে।

ঈশ্বরদীতে ইঞ্জিন পরিবর্তনের কারণ

সচিব ফাহিমুল ইসলাম বলেন, মাঝগ্রাম থেকে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে ট্রেন ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে পরিচালনাগত ঝুঁকি রয়েছে। ঈশ্বরদী জংশনে ইঞ্জিন পরিবর্তনসহ ট্রেন পরিচালনার সুবিধা থাকায় সেখান থেকেই এ ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে যাত্রায় কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে, তবে নিরাপত্তা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কোচ ও প্রস্তুতি

ভারত থেকে আনা ১৮টি কোচ বাংলাদেশ রেলওয়ে গ্রহণ করেছে, যা বর্তমানে সৈয়দপুর ক্যারেজ ওয়ার্কশপে রয়েছে। কিছু প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া বাকি আছে। ভারতীয় প্রকৌশলীদের কাজ শেষ হলে নভেম্বরের শেষার্ধে ১২টি কোচ নিয়ে ট্রেন চালু করা সম্ভব হবে।

পূর্বের ঘোষণা ও বাস্তবায়ন

২০২৩ সালের ১৬ মে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পাবনায় ঘোষণা করেছিলেন যে, সেপ্টেম্বর থেকে পাবনা-ঢাকা সরাসরি রেল চলাচল শুরু হবে। সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও অজ্ঞাত কারণে ট্রেনটি চালু হয়নি। বর্তমান সরকারের আমলে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ট্রেন চালুর বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখেছেন।

নতুন আন্তনগর ট্রেন চালু হলে ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া, পাবনা, লালপুর, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, ভেড়ামারা সহ আশপাশের এলাকার যাত্রীদের ঢাকায় যাতায়াত সহজ হবে। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজনে রাজধানীতে যাওয়ার সুবিধা পাবেন এই অঞ্চলের মানুষ।