সমকালের আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ‘হাবিবি পিএসি’ নামে একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) গঠন করেছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর-নির্বাচিত আব্দুল আল-সায়েদ। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) নথিতে বৃহস্পতিবার কমিটিটির নিবন্ধনের তথ্য পাওয়া গেছে। এটি তার নির্বাচনী প্রচারশিবির থেকে আলাদা একটি লিডারশিপ পিএসি।
কমিটির উদ্দেশ্য ও নামের অর্থ
পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি বা পিএসি হলো এমন সংগঠন, যা বিভিন্ন নির্বাচনে প্রার্থীদের সমর্থন বা বিরোধিতার জন্য অর্থ সংগ্রহ ও ব্যয় করে। রাজনৈতিক অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটস জানিয়েছে, লিডারশিপ পিএসির মাধ্যমে কোনো রাজনীতিক অন্য প্রার্থী, দল ও রাজনৈতিক কমিটিকে অর্থসহায়তা দিতে পারেন, যা দলের ভেতরে তার প্রভাব বাড়ায়। আরবি শব্দ ‘হাবিবি’-র অর্থ ‘আমার প্রিয়’ বা ‘আমার ভালোবাসার মানুষ’। নির্বাচনী প্রচারণায় শব্দটি প্রায়ই ব্যবহার করেছেন আল-সায়েদ। ডেট্রয়েটে দেওয়া বিজয় ভাষণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘জেডি, হাবিবি, এর মধ্যে এক চমৎকার পরিহাস রয়েছে যে, জানুয়ারিতে আমাকে শপথবাক্য পাঠ করানোর সাংবিধানিক দায়িত্ব আপনার।’
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট ও ব্যয়
এফইসির নথি অনুযায়ী, মঙ্গলবারের নির্বাচনের পর লিডারশিপ পিএসি নিবন্ধন করা নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আল-সায়েদ একজন। একই সময়ে অ্যারিজোনার আমিশ শাহ, আইওয়ার জশ টুরেক এবং নর্থ ক্যারোলাইনার রয় কুপারও নিজ নিজ কমিটি নিবন্ধন করেছেন। মিশরীয় অভিবাসী দম্পতির সন্তান আল-সায়েদ মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েন। প্রচারণার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও সিনেটর টেড ক্রুজ তাঁকে ‘জিহাদি’ বলার পাশাপাশি মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে যুক্ত করার অভিযোগ তুলেছিলেন।
ওপেনসিক্রেটসের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচনগুলোর একটি হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে মোট ব্যয় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা ২০২২ সালের ৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। সুপার পিএসির মাধ্যমে পরিচালিত বাইরের ব্যয় ৩ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।







