বেল্লাল হোসেন (৪০), যিনি ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল হায়দার হোসাইন হত্যাকাণ্ডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ছিলেন, ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন পিপি অ্যাডভোকেট আক্কাস শিকদার।

মৃত্যুদণ্ডের পটভূমি

হায়দার হোসাইন ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল এশার নামাজ শেষে ঝালকাঠির গোরস্থান মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। তার পুত্র মো. তারেক ইবনে হায়দার পরদিন ঝালকাঠি থানায় হত্যাকাণ্ডের মামলা করেন। ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি সিআইডি পাঁচজন জেএমবি সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

উচ্চ আদালত ২০২০ সালের ১ মার্চ (ইনকিলাব অনুযায়ী) এবং ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি (ঢাকা পোস্ট অনুযায়ী) মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। উভয় রায়ে বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি শাহেদ নুরুদ্দীনের সমন্বয়ে হাইকোর্ট রায় দেয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের নাম

মুরাদ হোসেন, আবু শাহাদাত মো. তানভীর (ওরফে মেহেদি), আমিনুল (ওরফে আমির হোসেন), মো. বিল্লাল হোসেন ও সমীর হোসেন ভূঁইয়া। বেল্লাল হোসেন পলাতক ছিলেন।

বিভিন্ন সূত্রের বিবরণ

আজকের পত্রিকা ও ঢাকা পোস্ট উভয়েই বেল্লাল হোসেনের আত্মসমর্পণের খবর দিয়েছে। ঢাকা পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বরগুনার তালতলী উপজেলা, ছোটবগি গ্রাম, মফিজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে এবং হায়দার হোসাইন হত্যাকাণ্ডের সময় মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন।

ঢাকা পোস্টে পিপি হুমায়ুন কবির বাবুলের মন্তব্যও রয়েছে, যিনি জানিয়েছেন যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন ইতিমধ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে ছিলেন এবং বেল্লাল হোসেনের আত্মসমর্পণের ফলে পাঁচজনই এখন কারাগারে। চারজনের আপিল সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।