বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড় নিয়েছে পুলিশ। গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরদিন বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাট-সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
এ ঘটনায় তাহসিফের সঙ্গে থাকা ব্যবসায়িক অংশীদার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। সমকাল অনুযায়ী পুলিশ তাহসিফের মোবাইল ফোন বন্ধ হওয়ার আগের সাত ঘণ্টার ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং তাঁর সঙ্গে থাকা দীপের বক্তব্য যাচাই করছেন তদন্তকারীরা।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফ ও দীপ রাতে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের জমজম টাওয়ারের কাছে নেস্ট রেস্তোরাঁ অ্যান্ড বারে গিয়েছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ফুটেজে তাদের সঙ্গে এক নারীকে দেখা গেছে। সমকাল অনুযায়ী ওই নারীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইনকিলাব বলেছে তিনি দীপের বান্ধবী দিশা। ফুটেজ অনুযায়ী, রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ ও দীপ মোটরসাইকেলে সেখানে পৌঁছান। তাহসিফের মোটরসাইকেলে এক নারীও ছিলেন। তিনি নেমে ভবনের ফুটপাতে দাঁড়ান। কয়েক সেকেন্ড পর দীপও সেখানে যান। ইনডিপেন্ডেন্ট টিভি অনুযায়ী, তারা সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেছিলেন।
পুলিশ তাহসিফের মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারা ছিলেন, কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফ বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তাঁর অবস্থান ও চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। পিবিআইর জিজ্ঞাসাবাদে দীপ ওই এলাকায় যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওই এলাকায় যাওয়ার পর কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দীপের বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ঘটনায় তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আদালতে দীপের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার বলেন, দীপের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন, অপরাধের আলামত নষ্ট করা বা অপরাধীকে শাস্তি থেকে বাঁচানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সময় রিমান্ডের আদেশ হওয়ার পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় দীপ এক স্বজনকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি ফুললি স্ট্রং।’
অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের কল্যাণ সংস্থা রাওয়া গতকাল উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে তাহসিফের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। মানবাধিকার সংগঠন এইচআরএসএস বলেছে, ঘটনার পর প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মৃত্যুর কারণ এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা বিশেষ করে পুলিশের বক্তব্যের সাথে দীপের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে কিনা, তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়াও তারা ময়নাতদন্ত ও রাসায়নিক পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ ও তদন্তের স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন।







