বাংলা ট্রিবিউন অনুসারে, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা অধীনে ভুইঘর এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের ২০১৯‑২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে দশটায় ঘটেছে বলে জানা যায়।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে বিবেচনা করলেও, ফারজানার বড় ভাই মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছেন। আরিফুলের মতে, ফারজানা তিন বছর আগে একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহিত হন; নাজমুলের বেকারত্বের সময় ফারজানার পরিবার তার আর্থিক সহায়তা করেছিল, তবে চাকরি পাওয়ার পর তা বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে নাজমুলের দ্বারা শারীরিক নির্যাতন ও ধমকানি ঘটেছে।

ফারজানা এক সময় তার বাবার বাড়িতে চার মাসের জন্য গিয়ে থাকেন, তবে নাজমুলের কোনো যোগাযোগ না থাকায় পরিবার নাজমুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পরে পারিবারিক সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় এবং ফারজানা আবার নাজমুলের বাসায় ফিরে আসে।

ঘটনার পূর্বে নাজমুলের দুলাভাই ফারজানার পরিবারকে ফোন করে মামলাটি প্রত্যাহার হয়েছে কিনা জানতে চায়; এরপর নাজমুল ফারজানাকে ফোন করে জানায় যে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। আরিফুলের মতে, এই কলের কয়েক ঘণ্টা পর ফারজানার মোবাইল বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে রাত সাড়ে দশটায় নাজমুল আবার ফোন করে আত্মহত্যার কথা জানায়।

বাড়ির মালিক আব্দুল কাদের জানান, নাজমুল তাকে ডেকে জানায় যে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে; গিয়ে তারা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় ফারজানার দেহ দেখেন। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে একই এলাকায় আরেকটি আত্মহত্যা ঘটেছিল, তবে এই ক্ষেত্রে কিছু পার্থক্য লক্ষ্য করেন।

ফতুল্লা থানার এসআই গাজী সুমন মাহতাবের মতে, দেহটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং নাজমুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফারজানা বর্তমানে কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর (২০২৪‑২৫) শিক্ষার্থী এবং তার গ্রামীয় বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে অবস্থিত। নাজমুলের বাড়ি চাঁদপুরে এবং তারা প্রায় দুই মাস অর্ধেক সময় ভাড়া বাসায় থাকতেন।