প্রথম আলো অনুযায়ী, পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটায় ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকায় স্থানীয় প্রশাসন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে বন্ধ করে দেয়।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ

কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান এবং কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন। মো. ইয়াসীন সাদেক উল্লেখ করেন, অনুমোদন ব্যতীত ভবন নির্মাণ দণ্ডনীয় অপরাধ এবং কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে ওই জমি রেলওয়ে স্থাপনার জন্য বরাদ্দ রয়েছে। বন্ধের পর পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন স্থাপনা স্থানে একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেয়, যেখানে লেখা আছে যে অনুমোদন ব্যতীত নির্মাণের কারণে কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে এবং অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকল্পের বিবরণ

প্রকল্পটি কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এসএ ২৯২ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক (প্রায় ৮৭,৭৮১ বর্গমিটার) জমিতে গড়ে উঠছে। সেখানে একটি মসজিদ ও কনভেনশন হলের নির্মাণ কাজ চলছিল এবং অন্তত ছয় একর জমির সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর‑১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী রয়েছেন; তার ছবি ও নাম হোটেলের ওয়েবসাইটে চেয়ারম্যান হিসেবে প্রকাশিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পকে “বাংলাদেশের হালাল ট্যুরিজম” বলে প্রচার করা হয় এবং পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে শেয়ার কেনার সুযোগের দাবি করা হয়েছে।

বিবাদ ও মন্তব্য

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাখাইন উমাচ্যান জমির মালিকানা নিয়ে দাদা চিথাও ও নাথাওর নামে একটি সিভিল মামলা দায়ের করেছেন। প্রথম আলোতে উল্লেখিত প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. মনির মুসুল্লী বলেন, তারা ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর ও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে অনুমোদন পত্র জমা দিয়েছে এবং কুয়াকাটা পৌরসভা থেকে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট পেয়েছে। তবে ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে একই প্রতিনিধি “কোনো তথ্য দিতে পারব না, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না” বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি বিরোধপূর্ণ বিবৃতি। মাসুদ সাঈদীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি পাওয়া যায়নি।

সমকাল, বাংলা ট্রিবিউন ও ইত্তেফাকের প্রতিবেদনের সঙ্গে প্রথম আলোর তথ্য মিলিয়ে দেখা যায়, নির্মাণ বন্ধের কারণ, উপস্থিত কর্মকর্তাদের নাম ও ভূমিকা, এবং জমির আয়তন একরূপে উল্লেখ করা হয়েছে; তবে প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া ও প্রতিনিধি মুসুল্লীর মন্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।