ইত্তেফাকের খবর অনুযায়ী, তীব্র ঘূর্ণিঝড় 'অর্ণব' বুধবার ভোরে পুদুচেরির কাকিনাডা ও ইয়ানামের মধ্যবর্তী আন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত করেছে। এই ঝড়ের ফলে উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত এবং প্রবল বাতাসের কারণে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়েছে।
জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)-এর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঝড়-বৃষ্টিতে আন্ধ্রপ্রদেশে অন্তত পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৩১টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ৭১৪টির বেশি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে এই ঝড় উপকূলে আঘাত হানেছে যাকে ল্যান্ডফল প্রক্রিয়া বলা হয়। এই প্রক্রিয়া তিন ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে চলতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ ঘণ্টায় ১২৫-১৩৫ কিলোমিটার ছিল, দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছিয়েছিল।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার কিছু অংশে ভারী বৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তার দৃষ্টিতে আন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা স্থগিত এবং বেশ কিছু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। স্কুল ও কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বেশ কিছু অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে বিদ্যুত্ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
ওড়িশার নবরঙ্গপুর, কোরাপুট, মালকানগিরি, গজপতি এবং গঞ্জাম জেলায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর পূর্বাভাস দিয়েছে যে ঘূর্ণিঝড় ওড়িশা অতিক্রম করে দক্ষিণ ছত্তিশগড়ের দিকে অগ্রসর হবে। অন্যদিকে, কলকাতার আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের চার জেলায়—দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে—ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই তথ্যগুলো বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকার হवाले দেওয়া হয়েছে।







