বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) পরিচালিত জরিপে উঠে আসা ২৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। রবিবার (৮ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে আজিমপুর সরকারি কোয়ার্টারের (বি-টাইপ) প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
প্রশাসক জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডে ১২ দিনব্যাপী ‘বর্ষাকালীন এডিস লার্ভা জরিপ ২০২৬’ পরিচালনা করা হয়। এ জরিপে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পরিদর্শন করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (সিডিসি) শাখার ৩৬ জন মাঠকর্মী আধুনিক ‘কোবো টুলবক্স’ ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ করেন।
জরিপের ফলাফলে ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৯টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ২৮টি মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১৮টি সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পরিদর্শিত বাড়িগুলোর মধ্যে ৩২২টিতে এডিস মশার লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যায়। জরিপে দেখা গেছে, বহুতল ও সেমি-পাকা ভবন, স্বতন্ত্র বাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন এবং খালি প্লটে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননের অন্যতম উৎস।
এই চিরুনি অভিযানের আওতায় নিবিড়ভাবে লার্ভিসাইডিং ও অ্যাডাল্টিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, ড্রেন-খাল ও নালা-নর্দমা পরিষ্কার এবং বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও মসজিদের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে যৌথ অভিযান চালানো হবে। এরপরও কোথাও এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, নাগরিকদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি জানান, জরিপে দেখা গেছে প্লাস্টিক বালতিতে ১৪.২১ শতাংশ, প্লাস্টিক ড্রামে ১১.২২ শতাংশ, বেইজমেন্টের জমানো পানিতে ৯.৯৮ শতাংশ, প্লাস্টিক মগে ৯.২৩ শতাংশ এবং ফুলের টবে ৫.৯৯ শতাংশ লার্ভা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নাগরিকরা নিজ আঙিনা ও পাত্রের বিষয়ে সচেতন হলেই প্রাথমিক অবস্থাতেই অর্ধেক (৫০.৯ শতাংশ) এডিস মশার বিস্তার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






