দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমাদের সমাজে বদনজর বা 'আল-আইন' সম্পর্কে বিভিন্ন ধারণা প্রচলিত। কেউ প্রশংসা করলে শিশু অসুস্থ হলে বা ব্যবসায় লোকসান হলে তাকে বদনজর বলা হয়। তবে কোরআন ও সহিহ হাদিসে বদনজরের নির্দিষ্ট লক্ষণের কোনো তালিকা নেই। হঠাৎ অসুস্থতা বা ব্যবসায়িক সমস্যার পেছনে বদনজরের পাশাপাশি অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও বাস্তব কারণ অনুসন্ধান করা জরুরি।
ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিকার
সহিহ মুসলিমের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'বদনজরের প্রভাব বাস্তব।' সাহল ইবনে হুনাইফ (রা.)-এর ঘটনায় দেখা যায়, প্রশংসার পর অসুস্থ হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) বরকতের দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন এবং অজুর পানি দিয়ে রুকইয়াহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) রাতে ঘুমানোর আগে তিন কুল (সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে শরীরে বুলিয়ে নিতেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কারও সৌন্দর্য বা সম্পদের প্রশংসা করলেই বদনজর লাগে না। তবে অন্যের ভালো কিছু দেখে 'আল্লাহ বরকত দিন' বলা উত্তম। শিশুর কপালে কালো টিপ দেওয়া বা জাদুর সাথে বদনজরকে এক করা শরিয়তসম্মত নয়। বদনজরের ক্ষেত্রে কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও শরিয়তসম্মত রুকইয়াহর ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রমাণ ছাড়া কাউকে দায়ী করা উচিত নয়।





