সমকালের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি খাদ্য বিভাগের চাকরিজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ধান-চালের ব্যবসা ও খাদ্য সরবরাহে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী ও তরুণদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক শহিদুল ইসলাম।

অভিযোগ রয়েছে, শহিদুল ইসলাম সরকারি দপ্তরের সঙ্গে ব্যবসার সুযোগ এবং লাভের আশ্বাস দিয়ে টাকা সংগ্রহ করতেন। বিনিময়ে কিছু ক্ষেত্রে স্ট্যাম্পে চুক্তি এবং ব্যাংকের চেক ধরিয়ে দিয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত না পেয়ে অনেক ভুক্তভোগী চেক ডিজঅনারের মামলায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

বগুড়ার শ্যামলী হোটেলের ম্যানেজার মো. জামিল খান জানান, ২০২৫ সালে ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়েছেন শহিদুল। তিনি দুটি ব্যাংক চেক দিয়েছিলেন, কিন্তু চেক ভাঙাতে গিয়ে দেখা যায় হিসাবে টাকা নেই। এরপর জামিল খান চেক ডিজঅনারের মামলা করেন।

গাইবান্ধার নীলা বেগম জানান, ১১ লাখ টাকা দিয়েছেন শহিদুলকে। পাঁচ মাস পর দেওয়া চেকটিতে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় এখনও টাকা ফেরত পাননি তিনি। আরেক ভুক্তভোগী কামরুল হাসান জানান, ২০২১ সালে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। পরে দেওয়া দুটি চেক ডিজঅনার হওয়ায় মামলা করেন এবং পুলিশ শহিদুলকে গ্রেপ্তারও করেছিল।

সমকালের সঙ্গে যোগাযোগে শহিদুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, উল্টো তিনিই অন্যদের কাছে টাকা পান এবং জেল খেটেছেন পূর্ব শত্রুতার কারণে।

বগুড়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নাজমুল হক ভূঁইয়া জানান, তিনি নতুন করে দায়িত্ব নিয়েছেন। শহিদুল ইসলাম সম্প্রতি বগুড়া কার্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত লেনদেনের অভিযোগ খাদ্য বিভাগের দেখার বিষয় নয়, তবে দাপ্তরিক কাজে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।