সমকালের খবর অনুযায়ী, গাজীপুরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে হামলায় গুরুতর আহত তৌফিক শেখ (২১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। মঙ্গলবার সকালে উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহত তৌফিক গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘড়িয়া গ্রামের তবিবুর রহমান তবি খানের ছেলে। তিনি গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় লায়লা গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।
স্বজনেরা জানান, গত পাঁচ বছর ধরে তৌফিক বাংলাবাজার এলাকায় থেকে কারখানায় কাজ করছিলেন। সোমবার নোমান গ্রুপের টেরিটোরি গার্মেন্টসের সামনে শ্রমিক আন্দোলন চলাকালে হামলার ঘটনা মুঠোফোনে ধারণ করার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় হামলাকারীরা তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং মারধর করে। এতে গুরুতর আহত হন তৌফিক। পরে সহকর্মী শ্রমিকেরা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতের নাম তৌফিক হোসেন এবং তিনি লায়লা স্টাইলস লিমিটেড কারখানায় কাজ করতেন। ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয় এবং লাশ গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঢাকা ট্রিবিউন বাংলার প্রতিবেদনে মৃত্যুর তারিখ '৩ অক্টোবর' উল্লেখ করা হয়েছে, যা সমকালের '২০২৬-১১-০৪' তারিখের সাথে মিলে না যাওয়ায় এটি যাচাইয়ের বিষয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন সমকালকে বলেন, একজন শ্রমিক মারা গেছেন বলে শুনেছি। একটি কারখানা বন্ধ করার জন্য বহিরাগত লোকজন গিয়ে চাপ দেয়। কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করতে রাজি না হলে বহিরাগতদের সঙ্গে ওই কারখানার শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুরুতর আহত এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সময় সেখানে পুলিশের কোনো সদস্য ছিলেন না বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে একই পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আন্দোলন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তৌফিক পুলিশের অভিযানে আহত হননি, বরং শ্রমিকরাই তাকে মারধর করেছিল।







