মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা আবারও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এতে গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে যান চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কাঠেরপুল এলাকার চারটি কারখানার কয়েক হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে লিংক রোডের শিবু মার্কেট এলাকায় অবস্থান নেন। আন্দোলনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা আবীর ফ্যাশন, মেট্রো নিটওয়্যার, মাইক্রো ফাইবার ও আজাদ নিট কম্পোজিটের কর্মী বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের খাবারের বিরতির পর আবীর ফ্যাশনের শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরে পাশের অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। একপর্যায়ে চারটি কারখানার শ্রমিকেরা একত্র হয়ে মিছিল নিয়ে মূল সড়কের দিকে এগিয়ে যান।

প্রথম আলো, ইত্তেফাক ও চ্যানেল ২৪-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্রমিকদের মূল দাবি হলো ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ। এছাড়াও শ্রমিকদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে সব পোশাক কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার বাস্তবায়ন, শ্রমিক আমজাদ হোসেন কামালসহ নিহত শ্রমিকদের হত্যার বিচার এবং বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও শ্রম আইন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।

ঢাকা পোস্টের খবর অনুযায়ী, পুলিশ শিবু মার্কেট এলাকায় সড়কে প্রবেশের মুখে বাধা দিলেও শ্রমিকরা ব্যারিকেড অতিক্রম করে লিংক রোডে অবস্থান নেন। এতে সড়কের দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন চালকেরা। এর আগে সোমবার একই দাবিতে ওই এলাকায় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও দুপুরের পর নতুন করে আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী ঢাকা পোস্টকে বলেন, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে জনদুর্ভোগ কমাতে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।