বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাকশিল্পের অগ্রগতি বজায় রাখা এবং শ্রমিকের জীবনমান নিশ্চিত করতে একটি বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ মজুরি কাঠামো নির্ধারণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। চ্যানেল আই-এর এক বিশ্লেষণে জানানো হয়, ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে সরকার পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ডের প্রধান চ্যালেঞ্জ হচ্ছে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পোশাকশিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা বজায় রাখা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের নভেম্বরে পোশাকশ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি শ্রমিক পক্ষ থেকে সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জোরালো হয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের তথ্য উল্লেখ করে জানানো হয়, সে সময় দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৩৪ শতাংশ, যেখানে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭.২২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯.৩০ শতাংশ। বিজিএমইএর তথ্যমতে, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে পোশাক খাত থেকে রপ্তানি আয় ছিল ৩৯.৩৫ বিলিয়ন ডলার (মোট রপ্তানির ৮১.৪৯ শতাংশ) এবং ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও তা ছিল ৩৮.৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
বেপজার ২০২৫ সালের তথ্যের বরাতে আন্তর্জাতিক মজুরি কাঠামোর তুলনা তুলে ধরে বলা হয়, এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে শ্রমিকদের মজুরি বেশ নিচু সারিতে। তবে আধুনিক প্রযুক্তি, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও অপচয় কমানোর মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ন্যায্য ক্রয়মূল্য প্রদান এবং সরকারের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের জন্য রেশন ও আবাসন সুবিধার মতো উদ্যোগের ওপরও জোর দেওয়া হয়।
এদিকে পোশাকশিল্প কেন্দ্রিক চলমান পরিস্থিতি নিয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমে সরকারের প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া এসেছে। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, আলোচনার মাধ্যমে যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের ইতিবাচক উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও একটি চিহ্নিত মহল পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। একাত্তর টিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান অভিযোগ করেন, ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের পরাজিত শক্তি এবং আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা চলমান শ্রমিক আন্দোলনকে পুঁজি করে ফায়দা নেওয়ার চক্রান্ত চালাচ্ছে।







