নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম (৩২) হত্যা মামলায় স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের বড় ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বেলা ১১টার দিকে গুরুদাসপুর থানার আমলি আদালতে রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) উপপরিদর্শক শফিকুল ইসলাম মিন্টুর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন, তবে আদালত মাত্র দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আজকের পত্রিকা জানিয়েছে, এর আগে মিন্টুর তিন দিনের রিমান্ড শেষ হয় গত শুক্রবার। ওই রিমান্ড চলাকালে মামলাটি থানা-পুলিশের কাছ থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে শুক্রবার বিকেলে মিন্টুকে আদালতে হাজির করে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আরও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

শুনানির সময় মিন্টুর আইনজীবী দ্বিতীয়বার রিমান্ডের বিরোধিতা করেন, যুক্তি দেখান যে ইতিমধ্যে একবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আগের রিমান্ড হয়েছিল অন্য তদন্ত কর্মকর্তার সময়ে এবং নতুন তদন্ত কর্মকর্তারও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্ত কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, রিমান্ড মঞ্জুরের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মিন্টুকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হবে।

গত ১৪ অক্টোবর রাতে গুরুদাসপুরে হামলার শিকার হন শাকিল ইসলাম। পরে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬ অক্টোবর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই দিন হাসপাতালে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজকে অবরুদ্ধ করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। পরে বাবার কথায় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন মিন্টু।

এই মামলায় আনিসুর রহমান ও মো. আল-আমিন নামের আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁদেরও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ট্রিবিউন, ইত্তেফাক, চ্যানেল ২৪ ও ইনডিপেনডেন্ট টিভির প্রতিবেদনেও এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ট্রিবিউন ও ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শুনানি শেষে আদেশ দেন গুরুদাসপুর আমলি আদালতের বিচারক মাহমুদুল হাসান।