একাত্তর টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ঘোষণা দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে নতুন করে কোনো হামলা চালানো হলে তার জবাবে কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা মানা হবে না। এ লক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সব দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান সম্পদকে আক্রমণের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
৭০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত
তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি রসুল সরদার জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তারা পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও তার আশপাশের অঞ্চলে ৭০০টিরও বেশি নতুন কৌশলগত স্থান ও স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় বড় বড় মার্কিন কোম্পানি ও তাদের ডিজিটাল ভৌত অবকাঠামোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান আঞ্চলিক সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর হামলা জোরদার করেছে। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তর, কুয়েত, জর্ডান এবং ইরাকের এরবিলের কৌশলগত পয়েন্টগুলোতে ইতিমধ্যে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে আঘাত হেনেছে তেহরান।
কূটনীতির দরজা বন্ধের ইঙ্গিত
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি মহসেন রেজাই সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় সতর্ক করে বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতার এই আদেশ অনুযায়ী যেকোনো আগ্রাসনের কঠোর জবাব দিতে এবার ‘নতুন প্রযুক্তি ও বিধ্বংসী অস্ত্র’ ব্যবহার করা হবে। তিনি জানিয়ে দেন, ইরানের ঘোষিত সাতটি শর্ত অবশ্যই পূরণ করতে হবে; যদি এই শর্তগুলো মানা হয়, তবেই শুধু কূটনীতির দরজা খোলা থাকবে।
কাতারের মধ্যস্থতায় যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নেপথ্যে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার প্রচেষ্টা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সর্বোচ্চ নেতার এই আক্রমণাত্মক বার্তায় চরম দুশ্চিন্তা ছড়িয়ে পড়েছে। খামেনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এবার ইরানে নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তবে কূটনীতির পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে এবং যুদ্ধ কখন থামবে বা কোন শর্তে থামবে, তা একমাত্র ইরানই নির্ধারণ করবে।







