প্রথম আলো অনুযায়ী তেহরানের আদালত স্বর্ণপামজয়ী ইরানি চলচ্চিত্র নির্মাতা জাফর পানাহিকে পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড, সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং দুই বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
পানাহি পূর্বে ২০২৫ সালে ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাকসিডেন্ট’ চলচ্চিত্রের জন্য কান উৎসবের স্বর্ণপাম জিতেছিলেন এবং ২০২২ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হয়ে সাত মাস কারাবন্দী ছিলেন, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জামিনে মুক্তি পান।
নতুন রায়ে তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি, এবং দুটি রায়ের সাজা কীভাবে কার্যকর হবে তা অনিশ্চিত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও মার্কিন সাময়িকী ভ্যারাইটি পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানের সংস্কারপন্থী সংবাদমাধ্যম এমতেদাদে পানাহির আইনজীবী মোস্তফা নিলি উল্লেখ করেন যে, আদালত তাঁর অনুপস্থিতিতেই নতুন রায় দিয়েছে এবং শুনানির তারিখও জানানো হয়নি।
পানাহির ব্যাংক হিসাব গত সপ্তাহে জব্দ করা হয়, এবং তিনি তেহরানের প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে গিয়ে জানতে পারেন যে আদালত ইতিমধ্যে নতুন রায় দিয়েছে।
সম্পদ বাজেয়াপ্তের বৈধতা নিয়ে ইরানের অধিকারকর্মীদের আইনি পরামর্শদাতা দাদবানের মানবাধিকার আইনজীবী মইন খাজায়েলি বলেন, সম্পত্তির সঙ্গে অভিযোগের সুস্পষ্ট আইনগত সম্পর্ক না থাকলে এমন বাজেয়াপ্তের নির্দেশ ইরানের সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে।
ইরানের চলচ্চিত্র অঙ্গনের কয়েকজন শিল্পীও নতুন রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মোহাম্মদ রাসুলফ পরিচালিত ‘দ্য সিড অব দ্য স্যাক্রেড ফিগ’ ছবির অভিনেত্রী সেতারেহ মালেকি বলেন, পানাহির মতো নির্মাতাদের গল্প দেশের সীমানা পেরিয়ে বিশ্বে পৌঁছে যাওয়াই কর্তৃপক্ষের অস্বস্তির কারণ।
ইরানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ অভিনেত্রী নাজানিন বনিয়াদি রায়ের নিন্দা জানিয়েছেন এবং বলেন, পানাহি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ইরানের মানুষের দুর্ভোগ ও প্রতিরোধের কথা তুলে ধরেছেন।
পানাহির চলচ্চিত্র ‘ট্যাক্সি’ ২০১৫ সালে বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বর্ণভালুক জিতেছিল এবং ২০১৮ সালে ‘থ্রি ফেসেস’ ছবির জন্য পান কান চলচ্চিত্র উৎসবের চিত্রনাট্য পুরস্কার পেয়েছিল।
নতুন মামলার অভিযোগের বিস্তারিত, রায় কার্যকর করার সময় এবং আগের কারাদণ্ডের সঙ্গে নতুন সাজা কীভাবে কার্যকর হবে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।






