হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর নির্মাণ শুরু হয় এবং ৯৯% এর বেশি কাজ সম্পন্ন হয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সীমিত পরিসরে উদ্বোধন করা হয়। ২০২৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার সিদ্ধান্ত সরকার নীতিগতভাবে নেয়।

জাপানি কনসোর্টিয়াম, যার সদস্যরা হলেন জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিটোমো করপোরেশন, নিপ্পন কোই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন, টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তি এখনও স্বাক্ষরিত হয়নি।

টার্মিনালের মূল রাজস্ব উৎস গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পূর্বে এককভাবে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং পরিচালনা করত, কিন্তু জাপান ৫০% থেকে ৩৫–৪০% পর্যন্ত শেয়ার সীমিত করার দাবি করেছে। এই শর্তে বেবিচক ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের আয়ে প্রভাব পড়ছে।

বেবিচকের রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনায় ২৭% শেয়ার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, যা আগের ১৫% থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। জাপান শর্তে টার্মিনাল পরিচালনায় বেবিচকের শুল্ক ২৭% এর কম হবে না বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

জাপান সরকারের অর্থায়নকারী সংস্থা জাইকা ১৭,০০০ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে। ২০২৩ সালে প্রথম কিস্তি পরিশোধ হয়নি, তবে চলতি বছরে ২,২০০ কোটি টাকার কিস্তি দিতে হবে। ২০২৪ সালের জুনে ১,২০০ কোটি টাকার কিস্তি পরিশোধ করা হয়েছে এবং ডিসেম্বর পর্যন্ত ১,০০০ কোটি টাকার কিস্তি দিতে হবে। ঋণ ২০৫৬ সাল পর্যন্ত চলবে।

টার্মিনাল চালু হলে বাৎসরিক যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮ লাখ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত হবে। আধুনিক ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং সিস্টেম, বোর্ডিং ব্রিজ, মেকানিক্যাল সার্ভিস ও আইটি নেটওয়ার্ক স্থাপন করা হবে।

উপরোক্ত তথ্য দেশ রূপান্তর অনুযায়ী।