আজকের পত্রিকা অনুযায়ী যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ৪৩ ভারতীয় বন্দী সাজা শেষ হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যাবাসন না হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আটক রয়েছেন।

মোট ৫২ ভারতীয় বন্দী কারাগারে থাকেন, যার মধ্যে ৪৩ জনের সাজার মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিছু বন্দীর ১৫ দিন থেকে দুই বছরের সাজা থাকলেও প্রত্যাবাসন না হওয়ায় ৮ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হচ্ছে।

বন্দীদের মধ্যে সাতজন নারী এবং ২৪ জনের বয়স ৫০ বছরের বেশি। দীর্ঘমেয়াদি কারাবাসে শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা উল্লেখ করেছেন।

বাছুল মাঝি ও গাজী মণ্ডলসহ অন্যান্য ভারতীয় বন্দীদের ক্ষেত্রে, সাজা শেষ হওয়ার পরও দেশে ফেরত পাঠানো হয়নি। বাছুল মাঝি ২০১৩ সালে অবৈধ প্রবেশের কারণে ৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়ে ২০১৮ সালে যশোর কারাগারে স্থানান্তরিত হন এবং পরে ৯ অক্টোবর বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। গাজী মণ্ডল ১৯ অক্টোবর মারা যান।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়াত জানান, মর্গে চারটি চেম্বার আছে, যার মধ্যে একটি নষ্ট এবং দুইটিতে ভারতীয় বন্দীদের মৃতদেহ রাখা আছে, ফলে অন্য মৃতদেহ রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।

সাক্ষী ও মানবাধিকার সংগঠনের মতে, কারাগারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় ৪৩ জন ভারতীয় বন্দী এখনও দেশে ফেরত পাননি। যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, অধিকাংশ বন্দী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে প্রত্যাবাসন অনুমোদন পেয়েছেন, কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না মেলার কারণে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ভারতীয় হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, এবং আদালতের মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর বিকল্পও বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, চারল দেবী ও গোবিন্দ বিহারীসহ দুই ভারতীয় বন্দীও সাজা শেষ হওয়া সত্ত্বেও দেশে ফেরত পাননি। চারল দেবী ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি শরীয়তপুরে আটকা পড়ে ৮ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন, সাজা শেষ হওয়া সত্ত্বেও মুক্তি পাননি। গোবিন্দ বিহারী ২০১১ সালে অবৈধ প্রবেশের জন্য ১ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন, সাজা শেষ হওয়ার পরও প্রায় ১৪ বছর ধরে দেশে ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।