ইত্তেফাকের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকার গত ১৫ অক্টোবর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ঘোষণার ১২ দিন বিত যাওয়ায়ও কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক কোনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন ব্যবস্থাপনায় সরকারি প্রতিষ্ঠান বোইসেলসহ ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সি এবং ২৫টি প্রসেসিং এজেন্সি যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এজেন্সি মালিকরা অভিযোগ করছেন যে, কর্মীরা কত টাকা খরচে মালয়েশিয়া যেতে পারবেন, বিনা খরচে যাওয়ার সুযোগ কারা পাবেন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা কোথায় হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) সদস্যদের মতে, শুধু সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা দিলেই স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় না। তাদের অভিযোগ, আগে ১০০টি প্রসেসিং এজেন্সি ছিল, এবার ২৫টি রাখা হয়েছে; অন্যদিকে ৮০০টির বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির পরিবর্তে ৩১২টি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে বোইসেল বা প্রসেসিং এজেন্সি থেকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) নিতে হবে, যা মধ্যস্থতাকারীদের প্রভাব বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০২২ সালে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, কর্মী প্রেরণকারী রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই করার দায়িত্ব এককভাবে মালয়েশিয়া সরকারের ওপর ছিল। এই সমঝোতাস্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাজার খোলার ঘোষণার পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা জরুরি ছিল।

বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু হওয়ায় তারা খুশি, কিন্তু কোন প্রক্রিয়ায় লোক পাঠানো হবে এবং কবে থেকে শুরু হবে—সেসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট নয়। সরকারি পক্ষ থেকেও কিছু বলা হচ্ছে না।

এদিকে, মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এখনো মেডিক্যাল সেন্টারের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ২৫টি মেডিক্যাল সেন্টারকে অনুমোদন দেওয়া হতে পারে এবং চলতি সপ্তাহ অথবা আগামী সপ্তাহে ঘোষণা আসতে পারে। তবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফি এখনো নির্ধারিত হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা আশা জানিয়েছেন যে, প্রক্রিয়াগত জটিলতা আগামী সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর মতে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর ঘোষণা কিছুটা অপরিপক্ব মনে হয়েছে। কারণ দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয় ছাড়াই বাংলাদেশ সরকার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেনি। তিনি বলেন, ডিসেম্বরে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হলে জানুয়ারিতে নতুন সমঝোতা স্মারক করা যেতে পারে। সেখানে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া, এজেন্সির অংশগ্রহণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে শ্রমবাজার পুরোপুরি চালু হতে ডিসেম্বর বা জানুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।