আজকের পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে টুপটুপ রিসোর্টে लगी আগুনে ১০ জন মৃত্যু হয়েছে। মরনেনদের মধ্যে ছয়জন খিলগাঁও, ঢাকার বাসিন্দা মেহেরুননেসা মিলার (৩০) স্বজন ছিলেন। মেহেরুননেসা, তাঁর স্বামী মাসুদ মিয়া এবং স্বজন আশিকুল ইসলাম জানালার কাচ ভেঙে লাফ দিয়ে প্রাণ বাঁচাতে পেরেছেন। আহত আশিকুল ইসলাম বলেছেন, রিসোর্টে জরুরি বের হওয়ার রাস্তা ছিল না।
এই ঘটনার পর কক্সবাজার শহর, মেরিন ড্রাইভ ও সেন্ট মার্টিনে অবস্থিত সাত শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হোটেল মালিক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে প্রতি বছর ৮০ থেকে ৯০ লাখ পর্যটক আসেন। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আহমদ গিয়াস আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, তারকা মানের হোটেল ছাড়া অধিকাংশ হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, পরিবেশগত ছাড়পত্র, পয়ঃশোধনাগার এবং জরুরি বের হওয়ার পথ নেই।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের লাইসেন্স শাখার পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, সকল তারকা মানের হোটেলে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। মাঝারি মানের ৫৩টি হোটেল-রিসোর্ট লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছে, যাচাই শেষে ২৩টিকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, বাকিদের নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) সচিব সানজিদা বেগম বলেছেন, অধিকাংশ হোটেলে অগ্নিনির্বাপকের সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকবলের অভাব রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা অনুযায়ী, মাত্র ৪৪টি হোটেল-রিসোর্টের পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে এবং পয়ঃশোধনাগার বা স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট আছে মাত্র ১৪টি প্রতিষ্ঠানে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া কার্যক্রম চালানোর অভিযোগে ২৬টি রিসোর্ট ও ১০টি রেস্তোরাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, টুপটুপ রিসোর্টসহ ১৪টি রিসোর্টকে জরিমানাও করা হয়েছে। কউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, মেরিন ড্রাইভ এলাকার প্রায় ২৫০টি অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হোটেল-রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান স্বীকার করেছেন যে, প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি নেই। তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের জন্য কমপক্ষে ১৭-১৮টি সরকারি দপ্তরে দৌড়াতে হয়, যার ফলে উদ্যোক্তারা হয়রান হয় এবং কিছুই প্রশাসনকে 'ম্যানেজ' করে অবৈধ স্থাপনা বানায়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) তাসনীম জাহান বলেছেন, জনবল সংকটের কারণে সকল অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি, তবে এখন কউক ও অন্যান্য সংস্থার সমন্বয়ে চিহ্নিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত শনিবার জেলা প্রশাসন পর্যটন অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। হোটেল-রিসোর্ট মালিকরা অগ্নিনির্বাপণ লাইসেন্স ও পরিবেশগত ছাড়পত্র সারাতে ছয় মাস সময় চেয়েছেন এবং ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলও একমত মত দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, ওয়ান স্টপ সার্ভিস বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। 더불어 ন্যূনতম নিরাপত্তাব্যবস্থা বিহীন হোটেল-রিসোর্টের বিরুদ্ধে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরিবহন ও পর্যটন খবর: আজ ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে মহানগর এক্সপ্রেস চালু হচ্ছে। কমলাপুর থেকে সন্ধ্যা ৭টায় ছুটে ট্রেনটি চট্টগ্রামে ২০ মিনিট বিরতির পর সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে। এতে ঢাকা থেকে কক্সবাজার সরাসরি আন্তনগর ট্রেনের সংখ্যা তিনটি হয়েছে। সেন্ট মার্টিনে আগামী ১ নভেম্বর থেকে পর্যটক যাতায়াত শুরু হবে, যা ২০২৭ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত চলবে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক যেতে পারবেন এবং প্রতিটি পর্যটক ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দেবেন।
আজ শনিবার কক্সবাজারে সারাদিন মেঘাচ্ছন্ন আকাশ, ভ্যাপসা গরম এবং গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের আনাগোনা থেমে নেই। বিকেলে সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ভিড় বেড়েছে।






