দেশ রূপান্তর অনুযায়ী, চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজারের সাতটি উপজেলার প্রায় ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নেন। শয্যাসংখ্যা ২৫০ হলেও গড়ে ৪০০-৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন, ফলে অনেক রোগীকে ওয়ার্ডের মেঝেতে আশ্রয় নিতে হয়। সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী হাসপাতালকে ৫০০ শয্যায় উন্নীত করা ছিল, কিন্তু এখনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।

হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) রয়েছে, তবে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে সেগুলো প্রায় বন্ধ। জনবল সংকটের কারণেই সপ্তাহে চার দিন আলট্রাসনোগ্রাফি, তিন দিন এক্স-রে, দুই দিন সিটি স্ক্যান এবং এমআরআই সেবা পুরোপুরি বন্ধ। ডায়ালাইসিস সেবাও রাসায়নিক দ্রব্যের সংকটে প্রভাবিত।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ৪১২ জন জনবলের পদের বিপরীতে বর্তমানে ৩০৩ জন কর্মরত, ১০৯টি পদ শূন্য। চিকিৎসকের ৮৪টি পদের বিপরীতে ৪৫টি শূন্য, কর্মরত ৩৯ জন। নার্স ও দ্বিতীয় শ্রেণির ১৯০টি পদের মধ্যে ২১টি, তৃতীয় শ্রেণির ৫৫টি পদের মধ্যে ১৬টি, চতুর্থ শ্রেণির ২২টি পদের মধ্যে ১৩টি পদ শূন্য। টেকনোলজিস্টদের ১৪টি পদের মধ্যে ৫টি শূন্য।

২০১৯ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে রক্ত পরীক্ষার মেশিন, এমআরআইসহ মোট ২৭টি যন্ত্র অচল। এমআরআই মেশিনটি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ফিলিপসের টেকনিশিয়ানরা সম্পূর্ণ অকেজো ঘোষণা করেছেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি ডা. সাদিক আহমেদ জেলায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. প্রণয় কান্তি দাস সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন এবং শীঘ্রই সংকট কেটে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।