ঢাকা পোস্ট অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরের এনসিপি যুগ্ম সদস্যসচিব মিফতাহুল হক তানবীর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, বসতবাড়ি ভাঙচুর, দখলচেষ্টা ও একাধিকবার হামলার অভিযোগ উঠেছে।
মোহাম্মদ নুরুল্লাহ সবুজ নামে এক ব্যক্তি বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আবেদন করেন।
নুরুল্লাহ সবুজের মতে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট মিফতাহুল হক তানবীর ও তার বড় ভাই মিরাজুল হক সাব্বিরসহ কয়েকজন তার নির্মাণাধীন বাড়ির কাজ বন্ধ করে দেন। সেই সময় বাড়ির সামনে থাকা একটি গাড়ি ভাঙচুর, গাড়িতে থাকা টাকা লুট এবং তার বয়স্ক মা-বাবাসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এই ঘটনায় তিনি চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্ত শেষে আসামিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলাটি এখনো চলমান।
মিফতাহুল হক তানবীরের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির পরিমাণ ২০ লাখ টাকা, এবং মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ৩ এপ্রিল রাত ১টা ৪০ মিনিটে তানবীরের নেতৃত্বে এনসিপির কয়েকজন নেতা-কর্মী তার বাড়ির নির্মাণাধীন দেয়াল ভেঙে ফেলেন, যা সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়েছে বলে নুরুল্লাহ সবুজ দাবি করেন।
এছাড়াও, নুরুল্লাহ সবুজ জুবায়ের আরিফের তদবিরে উল্টো তাকে ও পরিবারের সদস্যদের আসামি করে হাটহাজারী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি জানান, জুবায়ের আরিফকে মোবাইল ফোনে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে মামলার অভিযোগপত্র দ্রুত সম্পন্ন করতে থানায় তদবির করা হয়েছে।
সর্বশেষ, ২৬ অক্টোবর মামলার ধার্য তারিখে আদালত প্রাঙ্গণে নুরুল্লাহ সবুজের ওপর আবারও হামলা চালানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় জামিনে থাকা আসামিরা জড়িত এবং আদালতের সামনের সিসিটিভি ক্যামেরায় হামলাকারীদের চেহারা স্পষ্ট দেখা যাবে।
নুরুল্লাহ সবুজের দাবি, মিফতাহুল হক তানবীর ও তার ভাই সাব্বিরের নেতৃত্বে প্রায়ই লোকজন নিয়ে তার বাড়ির সামনে মহড়া দেওয়া হচ্ছে, এবং একাধিকবার মামলা ও থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেও কোনো প্রতিকার পাননি। তিনি বলেন, আসামিরা জামিনে বেরিয়ে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছেন, ফলে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপি নেতা মিফতাহুল হক তানবীর ঢাকা পোস্টকে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এটি পারিবারিক বিষয়। তিনি আমার সৎ মামাতো ভাই। বিষয়টিকে তিনি রাজনৈতিকভাবে টানতে চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিজমা দখলের চেষ্টা করেছেন। আমাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোরও চেষ্টা করেছেন। সম্প্রতি একটি বাড়ির দেয়াল ভাঙার ঘটনায় করা মামলায়ও আমাকে আসামি করা হয়েছে। তবে পরবর্তী সময়ে অভিযোগটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। শিগগিরই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আপনাদের সবার কাছে বিস্তারিত তুলে ধরব।’







