প্রথম আলো অনুসারে, ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল টুয়েলভের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও মোসাদ প্রধান রোমান গফম্যান ইসরায়েলের ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের ঠিক আগে ইরানে বড় আকারের সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

প্রতিবেদনে সূত্রের নাম প্রকাশ করা হয়নি এবং নিরাপত্তা সংস্থার অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন, কারণ তা সংঘাত বাড়িয়ে দিতে পারে এবং নির্বাচনের সময়সূচি বিপন্ন করতে পারে।

চ্যানেল টুয়েলভের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি নিরাপত্তা কর্মকর্তা পরিকল্পনা সম্পর্কে জানার পর দ্রুত হস্তক্ষেপ করে নেতানিয়াহুর উদ্যোগ থামিয়ে দেয়। তবে চ্যানেলটি হামলার নির্দিষ্ট ধরণ প্রকাশ করেনি।

নেতানিয়াহুর দপ্তর প্রতিবেদনের সত্যতা অস্বীকার করে, জানায় যে নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো আক্রমণ পরিকল্পনা ছিল না। একই সময়ে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকও টুয়েলভে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে, তাকে ইরানের বিরুদ্ধে “উসকানিমূলক” পদক্ষেপ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।

অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

চ্যানেল টুয়েলভের পূর্ববর্তী রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে ২৫ অক্টোবর নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইয়াল জামিরের মধ্যে “নজিরবিহীন বিরোধ” চলছিল, যেখানে জামির ইরানের সঙ্গে নতুন সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে এমন সামরিক পদক্ষেপে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

অন্যান্য (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) সূত্রের মতে, সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে ইরান ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বার্থপর ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ ছিল।

চ্যানেল ২৪-এর প্রতিবেদন

চ্যানেল ২৪ের একটি প্রতিবেদনে ইরানের পারমাণবিক সুবিধার আশেপাশে গোপন প্রস্তুতি এবং তেজস্ক্রিয়তা রোধের জন্য ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যা ইরান স্বীকার করে না। এই তথ্য প্রথম আলোয়ের প্রতিবেদনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়, তবে উভয়ই ইরান-ইসরায়েল সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রথম আলো ও চ্যানেল ২৪ উভয়ই ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ও ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়কে আলাদা আলাদা দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপন করেছে।