সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে সরকার। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ১২০ ধারার অর্পিত ক্ষমতাবলে এ বিধিমালা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে ঢাকা টাইমস ও আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

রবিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই নীতিমালার কথা নিশ্চিত করেন। ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের ফলে নিবন্ধন ও নবায়ন ছাড়া কোনো অটোরিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। বিধিমালায় দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার জন্য এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা ও বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি ই-রিকশার ফিটনেস সনদের ফি ১ হাজার টাকা। তবে আলোকিত বাংলাদেশ উল্লেখ করেছে, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন এলাকায় সমন্বিত এই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে, যেখানে ই-রিকশার প্রাথমিক নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

ঢাকা টাইমস আরও জানায়, একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি অটোরিকশা নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে। নিবন্ধিত প্রতিটি বাহনে দৃশ্যমান স্থানে কিউআর কোডযুক্ত নম্বরপ্লেট রাখতে হবে। ই-রিকশার সর্বোচ্চ আয়ুষ্কাল ১২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে, যা উত্তীর্ণ হলে নিবন্ধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। একই সঙ্গে ই-রিকশার গতিসীমা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ১৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, উড়াল এক্সপ্রেসওয়ে, প্রধান বাস রুট ও ফুটপাতে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া এক সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত অটোরিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।