রাজধানীর মিরপুরে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশের গাড়ি পোড়ানোর ছবি ও ভিডিও একটি নম্বরে পাঠানোর প্রমাণ পেয়েছেন গোয়েন্দারা, যার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে টাকা পাঠানো হয়েছিল।

প্রথম আলোকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান জানান, ঢাকা-১৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ভাগনে আলিফ মোল্লার মুঠোফোনে নাশকতার ছবি ও ভিডিও পাঠানো হতো। এরপর তিনজন আসামির মুঠোফোনে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা করে আসার প্রমাণ মিলেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ডিবি ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার কারাগারে পাঠায়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে পাঁচটি মামলা করেছে, যেখানে প্রতিটিতে সহস্রাধিক অজ্ঞাত আসামি রয়েছে।

এদিকে ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদনে পুলিশের বরাত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মান্নান কচি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম বিদেশে অবস্থান করে অর্থ জোগান দিচ্ছিলেন। সেই টাকা আলিফ মোল্লা ও মাহবুবুর রহমান জুয়েলের মাধ্যমে বিতরণ করা হতো বলে ডিবির দাবি। মিছিলে অংশ নেওয়া, টায়ারে আগুন ও গাড়ি ভাঙচুরের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ জানায়। তবে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে থাকায় তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বিএসএস (BSS) জানিয়েছে, মিরপুরে সহিংসতা ও পুলিশি কাজে বাধা দেওয়ার তিনটি পৃথক মামলায় ২৬ জনকে আদালতে উপস্থাপনের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বহিরাগত ও সাবেক ফ্যাসিবাদের সমর্থকেরা নিরীহ শ্রমিকদের ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে এবং তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে।