সমকাল জানাচ্ছে, গাইবান্ধার ফুলছড়ি জেলার জিগাবাড়ীঘাট থেকে নৌকায় ওঠা মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী হঠাৎ তীব্র প্রসবব্যথা অনুভব করেন। নৌকাটি ব্রহ্মপুত্র নদীর মাঝপথে থাকায় দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সেই সংকটময় মুহূর্তে নৌকায় থাকা কয়েকজন নারী যাত্রীরা ছাতা দিয়ে নৌকার ছইয়ের শেষ দিকটি আড়াল করে নিরাপদে প্রসবের ব্যবস্থা করেন। প্রথমে একটি ছেলে এবং পরে একটি মেয়ে সন্তান জন্ম নেয়।
মনের হোসেন জানান, ‘নদীর মাঝখানে এমন পরিস্থিতিতে আমরা ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু কয়েকজন বোনের সহযোগিতায় কোনো বিপদ ছাড়াই আমার স্ত্রী সন্তান জন্ম দিয়েছেন। মা ও দুই সন্তান সুস্থ থাকায় আতঙ্ক মুহূর্তেই খুশিতে রূপ নেয়।’
এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান আকন্দ বলেন, ‘মাঝনদীতে এমন ঘটনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চরাঞ্চলের মানুষের জন্য জরুরি প্রসূতিসেবা পাওয়া বরাবরই এক বড় চ্যালেঞ্জ।’
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তারিকুল ইসলাম জানান, ‘চরাঞ্চলের অন্তঃসত্ত্বা নারীদের চিকিৎসায় সরকারি বিশেষায়িত কোনো নৌকার ব্যবস্থা না থাকলেও বেসরকারি সংস্থার ‘মমতার তরী’ নামের একটি বিশেষায়িত নৌকা কাজ করে। সরকারিভাবে ভাসমান চিকিৎসাকেন্দ্র এবং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি।’
চ্যানেল ২৪ অনুযায়ী, একই ঘটনা ৩ নভেম্বর গাইবান্ধার ফুলছড়ি ব্রহ্মপুত্র নদীর মাঝখানে ঘটেছে, যা সমকাল ৪ নভেম্বরের প্রতিবেদনের সাথে তারিখে ভিন্নতা দেখায়। উভয় সূত্রে ঘটনাস্থল ও যমজ জন্মের বিবরণ মিল রয়েছে।







