ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলে সন্দেহজনক যাতায়াত এবং ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনার অভিযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমাজসেবা সম্পাদক অর্ক সাহাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন হল ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। ইনকিলাবের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলের দিকে তাকে আটক করা হয়। পরে প্রক্টর অফিসের মাধ্যমে তাকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়। আটক অর্ক সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি জামালপুর। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শয়ন-সৈকত কমিটির সমাজসেবা সম্পাদক।
জগন্নাথ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ছাত্রদল প্যানেল থেকে ডাকসু নির্বাচনে হল সংসদের নির্বাচিত সদস্য ধ্রুব রায় জানান, কিছুদিন ধরে অর্ক সাহার জগন্নাথ হলে যাতায়াত লক্ষ্য করছিলেন তাঁরা। তাঁর আচরণ ও কর্মকাণ্ড তাঁদের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। ধ্রুব রায়ের অভিযোগ, অর্ক সাহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে নিয়মিত পোস্ট দিতেন। পাশাপাশি জগন্নাথ হলের নিষ্ক্রিয় ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করছিলেন বলে তাদের সন্দেহ হয়।
রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জগন্নাথ হলে অর্ক সাহার সন্দেহজনক যাতায়াত দেখতে পান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর মুঠোফোনে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য ও উপকরণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তবে সেগুলোর প্রকৃতি বা বিষয়বস্তু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আটকের পর অর্ক সাহার হাতে ‘আপা আপনি ডিসেম্বরে আইসেন না’ লেখা একটি ব্যানার ধরিয়ে দেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল, ‘আপা আপা করিস না, আপা কিন্তু আইবো না’, ‘শেখ শেখ করিস না, শেখের বেটি আইবো না’ এবং ‘পিঠের চামড়া থাকবে না’ ইত্যাদি। পরে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের মাধ্যমে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
প্রথম আলো ও সমকালের প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির নাম ‘অর্ক রায়’ উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইনকিলাবের প্রতিবেদনের ‘অর্ক সাহা’ নামের সাথে মিলে যায় না। প্রথম আলো জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে ক্যানটিনে খাওয়ার সময় আটক করা হয় এবং জগন্নাথ হলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনি জড়িত থাকতে পারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল আটক ও পুলিশে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।






