স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ের মেঘনা হলে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭‑২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিংয়ে বলেন, আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে অপরিহার্য।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত, তাই আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।

মন্ত্রী সরকার গৃহীত জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল ২০২৬‑২০৩১ এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা ২০২৬‑২০৩১-এর আলোকে ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধিকে মূল অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেন।

ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় পুলিশ স্পেশাল ব্রাঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রযুক্তিনির্ভর না করে মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার প্রতি সংবেদনশীল এবং পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বহুজাতিক অপরাধ, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়; সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রয়াস প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এর প্রস্তাবিত ২০২৭‑২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত কাঠামো গঠনে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর অনুরোধ করেন, বলেন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেবল সীমান্ত সুরক্ষিত করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ বিশ্বায়নে বড় অবদান রাখবে।

আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে উল্লেখ করেন, অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান ও উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং ও ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, আন্তসীমান্ত অপরাধ ও পরিচয় জালিয়াতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে মতবিনিময় হয়। কৌশলগত রূপরেখায় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন – এই চারটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে।

অতিরিক্তভাবে, ২৭ অক্টোবর সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়, যাতে দর্শনার্থীর কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা যায়। একইসঙ্গে, অফিসার-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ভবিষ্যতে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বাড়বে, তবে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান না হলে অর্থনীতিতে চাপ পড়তে পারে; বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে শ্রমের জোগান কর্মসংস্থানের চেয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ বেশি হতে পারে।

অবশেষে, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন উদ্‌যাপনে খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক কোটি টাকা বেশি দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং তিন কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেন।