ইত্তেফাকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌয়ের সাদাতগঞ্জ এলাকায় ২৬ অক্টোবর সকাল ১০:৩০টায় একটি ফাঁকা জায়গায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে তীব্র বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। উত্তেজিত হয়ে ৩০ বছর বয়সী শূক্লা (মার্চেন্ট নেভির সাবেক নেভিগেশন অফিসার) পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান; প্রথমে দুইটি, রিলোড করে আর তিনটি, মোট ২২ সেকেন্ডের মধ্যে।
গুলির ফলে শিবাজি তিওয়ারি (৬২), শিবেন্দ্র তিওয়ারি (৫৫) এবং সুয়াশ তিওয়ারি (৩০) গুলি‑বিদ্ধ হন। তারা তৎক্ষণাৎ কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং চিকিৎসকেরা তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলেই শূক্লাকে আটক করে, তার পিস্তল ও চারটি গুলির খালি খোসা উদ্ধার করে। শিবেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী রুচি তিওয়ারির লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে FIR দাখিল করা হয়; মামলায় শূক্লাসহ মোট আটজনকে হত্যা ও দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
সাদাতগঞ্জ থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা ইনচার্জ অজয় কুমার চৌরাসিয়াকে দায়িত্বে অবহেলার জন্য তৎক্ষণাত্ বরখাস্ত করা হয়েছে। লক্ষ্ণৌ পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ কমিশনার তরুণ গাউবা ঘটনাটির সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, নিহত শিবাজি তিওয়ারি লক্ষ্ণৌতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) জেলা পর্যায়ের পদাধিকারী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে; স্থানীয় বিজেপি নেতা ও RSS সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা জানান এবং সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দেন।
শুটিং ও শূক্লার গ্রেপ্তার সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।







