রংপুরের পীরগঞ্জে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ইনকিলাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ সৌরভ চন্দ্র মহন্ত ও শফিকুল ইসলাম আরিফ নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে পীরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের চককরিম (তেলিপাড়া) এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তিনটি পরিবারের বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী দিনেশ চন্দ্র মহন্ত ইনকিলাবকে জানান, একদল লোক সন্ধ্যাবেলায় তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং তিনটি ছাগল লুট করে নিয়ে যায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলায় দুটি টেলিভিশন ভাঙচুর ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষতি করা হয়েছে।
হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সৌরভ চন্দ্র মহন্তের বাবা বিশ্ব চন্দ্র মহন্ত (সমকালের তথ্যমতে বিশু চন্দ্র মহন্ত) বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় ৩১ নম্বর মামলাটি করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়। ইনকিলাব জানিয়েছে, এ মামলার তদন্তে গুর্জিপাড়া (প্রথম আলো ও সমকালের মতে গুজিপাড়া) এলাকার আব্দুল কাদিরের ছেলে শফিকুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
অন্যদিকে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে আমিনুল দাফাদার (প্রথম আলোর মতে মকিমপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম দফাদার) বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় পৃথক ৩০ নম্বর মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটিতে সৌরভ চন্দ্র মহন্তকে আসামি করা হয়। প্রথম আলো জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ বগুড়ার শিবগঞ্জ থেকে সৌরভকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার পর সোমবার রাতে রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক ও পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল বাকিউল বারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সমকাল ও প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী, পরিদর্শনের সময় স্থানীয় বিএনপির নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক ইনকিলাবকে জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।







