আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হवाले জানানো হয়েছে, আরব সাগরে মোতায়েন মার্কিন রণতরী 'ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন'-এ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক শেলবি হলিডে রণতরী পরিদর্শনকালীন সময় নাবিকদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং বাঙ্কার-বাস্টার বোমা সহ বিপুল যুদ্ধাস্ত্র বোঝাই করতে দেখেছেন। এসব বোমা মাটির গভীরে বা শক্তভাবে ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত স্থাপনায় আঘাত করার জন্য তৈরি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাত আরও তীব্র হলে দ্রুত সামরিক অভিযান চালানো যায় সেজন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বাহিনী। রণতরীতে মাঝরাতে যুদ্ধবিমান ওঠানামা ও ফ্লাইট অপারেশনও জোরদার করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইরানের ওপর নতুন বিমান হামলা শুরু হতে পারে। নিরাপত্তার কারণে রণতরীটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর সিএনএন একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষে ফের ইরানে হামলা শুরু হতে পারে। লক্ষ্য হতে পারে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি স্থাপনা, যার মধ্যে পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাও রয়েছে। সামরিক পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে এসব গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলার কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বোমা 'মাদার অব অল বোম্বস' (এমওএবি) ব্যবহারের পরিকল্পনাও করছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও গালফ নিউজ জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (স্থানীয় সময়) সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন, ইরানে হামলা রবিবারই শুরু হতে পারে। তিনি বলেছেন, "আমরা হামলার ব্যাপারে ভাবছি, সম্ভবত আগামীকাল (রবিবার) হতে পারে।" তবে ট্রাম্প এছাড়া বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত অনুযায়ী চুক্তি মেনে নেয় তবে নতুন হামলা থেকে তারা বাঁচতে পারবে। গত বছরের জুনে বি-২ বোমার দিয়ে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হয়েছিল বলে স্মরণ করিয়ে তিনি দাবি করেছেন, তাদের লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে আটকানো।