বাংলা ট্রিবিউন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ৩০ কোটি (৩০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার ঋণ দিয়েছে, যা প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২ কোটি ৬০ লাখ শিশুর শিক্ষার মান উন্নত করার লক্ষ্যে ব্যবহার হবে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ‘দ্য লার্নিং এনহ্যান্সমেন্ট অ্যান্ড অ্যাকসেলারেশন ইন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় এই অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে।

প্রকল্পটি বাংলাদেশের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এবং প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও বিদ্যালয় পরিচালনার দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১০ বছর বয়সী শিশুদের প্রায় ৫০ শতাংশই উপযোগী সাধারণ লেখা পড়ে তা বুঝতে পারে না, যা মালয়েশিয়া ও ব্রাজিলের তুলনায় বেশি।

প্রকল্পের আওতায় শিক্ষার্থীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও গণিতের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ শিক্ষা প্যাকেজ চালু হবে, যার মধ্যে পাঠদানের উপকরণ, নির্ধারিত পাঠ পরিকল্পনা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত। ৯০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাংকের জ্যেষ্ঠ শিক্ষা বিশেষজ্ঞ তাসমিনা রহমান বলেন, ‘ভালো কর্মসংস্থানের জন্য শিক্ষার মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী করা জরুরি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রকল্পটি শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের নেতৃত্বের মান উন্নয়ন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে তথ্যের ব্যবহার বাড়াবে।

প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৪৩ হাজার নতুন ও তুলনামূলক ভালো বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ঋণের মেয়াদ ২৫ বছর, যার মধ্যে প্রথম পাঁচ বছর পরিশোধে ছাড় থাকবে।

এই তথ্যগুলো ঢাকা টাইমস, সমকাল, Daily Observer এবং ঢাকা ট্রিবিউন বাংলা সহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে।